লক্ষ্মীর ভাণ্ডার কি বন্ধ হবে? বিজেপির ‘অন্নপূর্ণা’ প্রকল্পে ৩০০০ টাকা পাওয়ার আশায় তোলপাড় বাংলা!

বাংলার মসনদ দখলে মরিয়া বিজেপি। আগামী ২৩ এপ্রিল রাজ্যে প্রথম দফার বিধানসভা নির্বাচন, আর তার আগেই প্রচারের ময়দানে ঝড় তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। গেরুয়া শিবিরের লক্ষ্য এবার রাজ্যের মহিলা ভোটব্যাঙ্ক। আর সেই উদ্দেশ্যেই বিজেপির তরফে প্রকাশিত ‘সংকল্প পত্রে’ ঠাঁই পেয়েছে এক মেগা ঘোষণা— ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’। বর্তমানে চালু থাকা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তারা ক্ষমতায় এলে মহিলাদের মাসে ৩০০০ টাকা করে ভাতা প্রদান করবে।

বিধানসভা ভোটের আবহে সাধারণ মানুষের মনে বড় প্রশ্ন— বিজেপি ক্ষমতায় এলে কি বন্ধ হয়ে যাবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার? বিজেপি নেতৃত্ব সরাসরি এমন কথা না বললেও, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের আদলেই ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ চালু করতে চায় গেরুয়া বাহিনী। যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার বর্তমানে সাধারণ শ্রেণির মহিলাদের ১৫০০ টাকা ও সংরক্ষিত শ্রেণির মহিলাদের ১৭০০ টাকা দিচ্ছে, সেখানে বিজেপি ক্ষমতায় এলে সরাসরি ৩০০০ টাকা দেওয়ার টোপ দিয়েছে। এই বিপুল অঙ্কের ভাতার ঘোষণা এখন বাংলার গ্রামেগঞ্জে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

অমিত শাহের ঘোষণা অনুযায়ী, শুধু মহিলারাই নন, রাজ্যের বেকার যুবকদের জন্যও মাসে ৩০০০ টাকা ভাতার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে বিজেপির ইস্তাহারে। অর্থাৎ, আর্থিক স্বনির্ভরতার প্রশ্নে মমতা সরকারকে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ মোদী-শাহ জুটি। তবে অন্নপূর্ণা প্রকল্পে আবেদনের বয়সসীমা বা নির্দিষ্ট মানদণ্ড সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত নির্দেশিকা মেলেনি। বিজেপির দাবি, ডবল ইঞ্জিন সরকার রাজ্যে এলে উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের গতি দ্বিগুণ হবে।

বাংলার নির্বাচনী ময়দান এখন ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ বনাম ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এর যুদ্ধে পরিণত হয়েছে। একদিকে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত প্রকল্প, অন্যদিকে বিপুল অঙ্কের নতুন প্রতিশ্রুতি। বাংলার নারীশক্তি শেষ পর্যন্ত কার দিকে ঝুঁকবেন? ৪ মে ভোটের ফলাফল প্রকাশের দিনেই পরিষ্কার হবে, কোন ‘ভাণ্ডার’ বাঙালির মন জয় করতে পারল। আপাতত ২৩ এপ্রিলের প্রথম দফার লড়াইয়ের দিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।