‘এক সেকেন্ডে দল থেকে বের করে দেব!’ দুর্গাপুরের সভা থেকে নিজের দলেরই ‘কেউকেটা’দের চরম হুঁশিয়ারি মমতার

এপ্রিলের প্যাচপ্যাচে গরম আর চড়া রোদ উপেক্ষা করেই সোমবার শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুরে মেগা র‍্যালি করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দুর্গাপুর পশ্চিমের চতুরঙ্গ ময়দানের এই জনসভা থেকে একদিকে যেমন তিনি বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে তুলোধোনা করলেন, তেমনই দলের অন্দরের ‘দুর্নীতি’ নিয়ে দিলেন এক নজিরবিহীন কড়া বার্তা। নিজের দলেরই এক প্রভাবশালী অংশকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, শিল্পাঞ্চলে চাকরির নামে টাকা নিলে এক সেকেন্ডে দল থেকে ছেঁটে ফেলা হবে।

এদিন চতুরঙ্গ ময়দানে দুর্গাপুর পূর্বের তৃণমূল প্রার্থী প্রদীপ কুমার মজুমদার ও দুর্গাপুর পশ্চিমের কবি দত্তর সমর্থনে প্রচার করেন দলনেত্রী। সভার শেষলগ্নে শিল্পাঞ্চলের কর্মসংস্থান নিয়ে মুখ খোলেন তিনি। মমতা বলেন, “এখানকার ইন্ডাস্ট্রিতে যখনই চাকরি হয়, বাইরের লোকেরা টাকা দিয়ে চাকরি নিয়ে নেন, স্থানীয়রা পান না। আমি কথা দিচ্ছি, তৃণমূল প্রার্থীদের জেতান, এই সিস্টেম আমি বন্ধ করে দেব। এর পরেও যদি দলের কেউ টাকা নিয়ে চাকরি দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে দেখে নেব কত সাহস! সে যত বড়ই কেউকেটা হোক না কেন, তৃণমূল কংগ্রেসে তার ঠাঁই হবে না।” নেত্রী আরও যোগ করেন, “দলের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। বারবার বারণ করা সত্ত্বেও যদি কেউ এটা করেন, তাকে বাদ দিতে আমার এক সেকেন্ড সময় লাগবে।”

চাকরি ইস্যুতে দলের অন্দরে হুঁশিয়ারি দেওয়ার পাশাপাশি ইভিএম পাহারা নিয়েও কর্মীদের অদ্ভুত এক পরামর্শ দিয়েছেন মমতা। তিনি বলেন, “ইভিএম খারাপ হয়ে গেলে নতুন মেশিন না আসা পর্যন্ত ভোট দেবেন না। এক থেকে হাজার পর্যন্ত গুনে দেখে নেবেন মেশিন ঠিক আছে কি না। আর যারা ইভিএম পাহারা দেবেন, তারা খুব সাবধান! বাইরে থেকে কেউ দই বা সন্দেশ দিয়ে গেলে খাবেন না। ভাববেন ওতে বিষ আছে বা ঘুমের ওষুধ আছে। আপনি ঘুমিয়ে গেলেই আপনার ভোট লুট হবে।”

ভোটের আগে শিল্পাঞ্চলে এই ‘পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি’ বজায় রাখার বার্তা এবং ইভিএম নিয়ে অতি-সতর্কতা বঙ্গ রাজনীতির পারদকে আরও কয়েক ডিগ্রি চড়িয়ে দিয়েছে।