“পুরীর মন্দিরে ৪৮ বছরের রহস্যের অবসান!”-খুলল ‘ভিতর রত্নভাণ্ডার’,মিলল গুপ্তধনের পাহাড়?

সময় থমকে গিয়েছিল দীর্ঘ ৪৮ বছর। অবশেষে সেই রুদ্ধদ্বার প্রতীক্ষার অবসান। ওড়িশার শ্রীজগন্নাথ মন্দিরের সবচেয়ে রহস্যময় স্থান ‘ভিতর রত্নভাণ্ডার’-এর দরজা এখন হাট করে খোলা। ১৯৭৮ সালের পর ২০২৬-এর আধুনিক প্রযুক্তির আলোয় প্রথমবার উন্মোচিত হলো মহাপ্রভুর সেই অলৌকিক মণি-মাণিক্যের ঐশ্বর্য। দেশ-বিদেশের লক্ষ লক্ষ ভক্তের এখন একটাই প্রশ্ন— কী কী গোপন সম্পদ লুকিয়ে আছে ওই অন্ধকার প্রকোষ্ঠে?
অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে কড়া নজরদারি
এবারের গণনা কেবল সাধারণ তালিকা তৈরি নয়, বরং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অবলম্বন করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে:
-
৩ডি ম্যাপিং ও ডিজিটাল ভিডিওগ্রাফি: প্রতিটি অলঙ্কারের সঠিক গঠন এবং স্থায়িত্ব মাপতে ব্যবহার হচ্ছে আধুনিক থ্রি-ডি ম্যাপিং।
-
নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা: ১৩ এপ্রিল থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে এই মহাযজ্ঞ। এই কদিন বিশেষ অনুমতিপ্রাপ্ত সদস্য ছাড়া মন্দিরের সেই স্পর্শকাতর এলাকায় কাকপক্ষীরও প্রবেশ নিষেধ।
-
ধাপে ধাপে গণনা: ‘চলিত’ এবং ‘বাহির রত্নভাণ্ডার’-এর কাজ শেষ করে এখন আসল নজর কাড়ছে ভিতরের ওই প্রাচীন প্রকোষ্ঠ।
১৮ বার লুঠের চেষ্টা, তাও অম্লান মহাপ্রভুর ঐশ্বর্য
ইতিহাস বলছে, সোমনাথ মন্দিরের মতোই জগন্নাথ মন্দিরও বিদেশি লুঠেরাদের নিশানায় ছিল বারবার। অন্তত ১৮ বার এই মন্দিরের সম্পদ লুঠের ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। কিন্তু প্রতিবারই অকুতোভয় সেবকরা প্রাণ বাজি রেখে বিগ্রহ ও গহনা গোপন সুরঙ্গ বা পাহাড়ের গুহায় লুকিয়ে রক্ষা করেছেন। আজ সেইসব রাজকীয় দান এবং প্রাচীন ইতিহাসের দলিল পরীক্ষা করছেন বিশেষজ্ঞ কমিটি।
গোপন কক্ষ ও অলৌকিক রহস্য
পুরীর মন্দিরের পুরনো সেবকদের মুখে মুখে ফেরে অসংখ্য লোককথা। শোনা যায়, রত্নভাণ্ডারের অন্দরে এমন কিছু গোপন কক্ষ রয়েছে যার হদিশ কোনো মানচিত্রে নেই। অনেকে মনে করেন, সেই প্রকোষ্ঠগুলোতে রক্ষিত আছে এমন কিছু রত্ন যা মানুষের কল্পনার অতীত। ৪৮ বছর পর যখন সেই তালা ভাঙা হলো, তখন মানুষের প্রত্যাশা ও উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে।
বিশেষ তথ্য: শেষবার ১৯৭৮ সালে যখন এই ভাণ্ডার খোলা হয়েছিল, তখনকার রেকর্ড অনুযায়ী সেখানে সোনা ও রুপোর পরিমাণ ছিল কয়েক কুইন্টাল। বর্তমান বাজারমূল্যে যা কয়েক হাজার কোটি টাকা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রযুক্তির আলোয় কি ঘুচবে প্রাচীন অন্ধকার? না কি নতুন কোনো রহস্যের জন্ম দেবে এই রত্নভাণ্ডার? আগামী ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত গোটা বিশ্বের চোখ এখন পুরীর নীলাচল ধামের দিকে।