‘Salary-ইনক্রিমেন্ট দিতেই হবে,’ আন্দোলন Private কর্মীদের, পুলিশের গাড়িতে আগুন

বেতন বৃদ্ধি ও ন্যায্য পাওনার দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন মুহূর্তের মধ্যে বদলে গেল রণক্ষেত্রে। দিল্লির উপকণ্ঠ নয়ডার ফেজ-২ এলাকায় বেসরকারি কর্মীদের বিক্ষোভে সোমবার সকালে তৈরি হয় এক ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি। উত্তপ্ত জনতা পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি একাধিক যানবাহনে আগুন লাগিয়ে দেয় বলে অভিযোগ। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও এলাকা জুড়ে থমথমে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
দাবির আড়ালে চরম বিশৃঙ্খলা
স্থানীয় সূত্রে খবর, সেক্টর-৮৪ এলাকায় বিক্ষোভকারীরা দুটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। ফেজ-২-এর বিভিন্ন পয়েন্টে রাস্তা অবরোধের ফলে সাধারণ মানুষ দীর্ঘক্ষণ যানজটে আটকে পড়েন। বিক্ষোভকারীদের মূল দাবি ছিল দুটি:
-
বেতন বৃদ্ধি: আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধির বাজারে বর্তমান বেতনে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
-
ওভারটাইম পেমেন্ট: ছুটির দিনে কাজ করলে দ্বিগুণ পারিশ্রমিক দিতে হবে এবং কাজের পরিবেশ উন্নত করতে হবে।
শান্তিপূর্ণ আন্দোলন থেকে কেন এই তাণ্ডব?
গত তিন দিন ধরে শান্তিপূর্ণ অবস্থান চললেও সোমবার সকালে আচমকাই মেজাজ হারান কর্মীরা। অভিযোগ, পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিতে গেলে একদল উত্তেজিত আন্দোলনকারী পুলিশের গাড়িতে হামলা চালায়। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় বিশাল পুলিশ বাহিনী নামানো হয় এবং হালকা বলপ্রয়োগ করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করা হয়।
প্রশাসনের ভূমিকা
উল্লেখ্য, গত রবিবারই জেলা প্রশাসন ও পুলিশ কর্মীদের প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠকে বসেছিল। আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে দাবিগুলো গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে। কিন্তু সেই আশ্বাসে কর্মীরা সন্তুষ্ট হননি। সোমবারের এই হিংসাত্মক ঘটনা সেই দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রশাসনের কড়া বার্তা: নয়ডা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করার অধিকার সবার আছে, কিন্তু আইন হাতে তুলে নিলে বা জনসম্পত্তি নষ্ট করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দোষীদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বেসরকারি ক্ষেত্রে অসন্তোষের ইঙ্গিত
নয়ডার এই ঘটনাটি ভারতের কর্পোরেট এবং বেসরকারি সেক্টরে বাড়তে থাকা কর্মী অসন্তোষকে ফের সামনে এনে দিল। একদিকে কাজের ক্রমবর্ধমান চাপ এবং অন্যদিকে চাহিদামতো বেতন না পাওয়া— এই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট কর্মীরা এখন চরম পথ বেছে নিচ্ছেন। আগামী দিনে এই আন্দোলন অন্য কোথাও ছড়িয়ে পড়ে কি না, এখন সেটাই দেখার।