পঞ্চম দা-র সুর আর আশা তাই-এর কণ্ঠ—থেমে গেল এক সোনালী অধ্যায়! চিরবিদায় নিলেন সুরসম্রাজ্ঞী, কাঁদছে সঙ্গীত জগত!

ভারতীয় চলচ্চিত্র সঙ্গীতের আকাশে একটি উজ্জ্বল নক্ষত্রের পতন হলো। ১২ই এপ্রিল রাতে মুম্বাইয়ের হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলে। ১৩ই এপ্রিল মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। ৮ দশক ধরে নিজের কণ্ঠ দিয়ে কোটি কোটি মানুষের হৃদয় জয় করা ‘আশা তাই’ আজ পঞ্চভূতে বিলীন হলেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, একাধিক অঙ্গ বিকল হওয়ার কারণেই (Multiple Organ Failure) ৯২ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
আশা-আরডি জুটি: সুরের এক অনন্য জাদুঘর আশা ভোঁসলে মানেই এক বহুমুখী কণ্ঠ, আর আর.ডি. বর্মন বা ‘পঞ্চম দা’ মানেই সঙ্গীতের পরীক্ষা-নিরীক্ষা। যখনই এই জুটি একত্রিত হয়েছেন, তৈরি হয়েছে ইতিহাস। তাঁদের রসায়ন কেবল স্টুডিওতে সীমাবদ্ধ ছিল না, তা হিন্দি সিনেমার ধারাকে বদলে দিয়েছিল। আজ আশা তাই-এর বিদায়বেলায় ফিরে দেখা যাক তাঁদের সেরা ৫টি অবিস্মরণীয় কাজ:
১. মেরা কুছ সামান (ইজাজত, ১৯৮৭): গুলজারের লেখা এই গানে আশা ভোঁসলে বিচ্ছেদের যন্ত্রণা আর অপূর্ণ প্রেমের আকুতি এমনভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন যে আজও তা শুনলে চোখ ভিজে আসে। এটি কেবল গান নয়, একটি নীরব হাহাকার।
২. কাটরা কাটরা (ইজাজত): বৃষ্টির মতো ফোঁটায় ফোঁটায় ঝরে পড়া সুর আর আশা তাই-এর মখমলি কণ্ঠের এই গানটি শ্রোতাদের মনের গভীরে প্রশান্তি এনে দেয়।
৩. চোরি চোরি ষোলো শৃঙ্গার (মনোরঞ্জন, ১৯৭৪): জিনাত আমানের ওপর চিত্রায়িত এই গানে আশা ভোঁসলের কণ্ঠে ফুটে উঠেছিল এক অদ্ভুত চঞ্চলতা আর সারল্য। আরডি বর্মনের ওয়েস্টার্ন আর ইন্ডিয়ান ফিউশন এই গানটিকে আজও সতেজ রেখেছে।
৪. প্যায়ার করনে ওয়ালে (শান, ১৯৮০): আত্মবিশ্বাস আর আধুনিকতার সংমিশ্রণ এই গানটি আশা ভোঁসলের বৈচিত্র্যময় গায়কির প্রমাণ দেয়। অমিতাভ বচ্চন ও পারভীন ববি অভিনীত ‘শান’ ছবির এই গানটি আজও ড্যান্স ফ্লোরে জনপ্রিয়।
৫. পিয়া তু আব তো আজা (ক্যারাভান, ১৯৭১): বলিউডের ইতিহাসে ‘ক্যাবারে’ গানের সংজ্ঞা বদলে দিয়েছিল এই গানটি। হেলেনের নাচ আর আশা ভোঁসলের সেই বিখ্যাত শ্বাসপ্রশ্বাসের কাজ (breathing technique) আজও আইকনিক হয়ে রয়েছে।
স্মৃতিতে অমর আশা তাই: আজ আশা ভোঁসলে আমাদের মধ্যে নেই, কিন্তু তাঁর গলার প্রতিটি ভাঁজ, তাঁর সেই ‘হুররে’ চিৎকার আর পঞ্চম দা-র সেই অসামান্য টিউনগুলো চিরকাল আমাদের কানে বাজবে। সঙ্গীত জগত আজ মাতৃহীন হলেও তাঁর গানগুলো প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে এক সোনালী যুগের কথা বলে যাবে।