গরমে রেকর্ড লোডশেডিংয়ের দিন শেষ! হাতে মজুত ৯০ দিনের ‘কালো সোনা’, নিশ্চিন্ত করল কেন্দ্রীয় সরকার!

দেশজুড়ে বাড়তে থাকা গরমের মাঝেই সাধারণ মানুষের জন্য বড় স্বস্তির খবর শোনাল কেন্দ্রীয় সরকার। সোমবার কেন্দ্রীয় কয়লা ও খনি মন্ত্রী জি কিষাণ রেড্ডি জানিয়েছেন, ভারতের কাছে বর্তমানে ৯০ দিনের প্রয়োজনীয়তা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত কয়লা মজুত রয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ সংকটের যে আশঙ্কা করা হচ্ছিল, তা কার্যত উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।
মজুত ২০ কোটি টন ‘কালো সোনা’: মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রেড্ডি বলেন, “টানা দ্বিতীয় বছরের মতো ভারত ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) টন কয়লা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা স্পর্শ করেছে। বর্তমানে আমাদের তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং খনিগুলোতে ২০ কোটি টনেরও বেশি কয়লা মজুত রয়েছে। আগে যেখানে মাত্র ২১-২৫ দিনের মজুত থাকত, সেখানে এখন আমরা টানা ৩ মাস নিশ্চিন্ত থাকতে পারি।”
আস্তাকুঁড় থেকে মিলবে মূল্যবান খনিজ: মন্ত্রী শুধু কয়লা নয়, খনিজ ক্ষেত্রে ভারতকে আত্মনির্ভর করার জন্য ‘শহর খনির’ (Urban Mining) ওপর জোর দিয়েছেন। সরকারের নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী:
-
শহর থেকে সংগৃহীত ইলেকট্রনিক বর্জ্য যেমন পুরোনো ফ্রিজ, এসি বা কবাড থেকে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ বের করা হবে।
-
দেশের খনিজ চাহিদার ৩০-৪০ শতাংশই মেটানো সম্ভব হবে এই প্রক্রিয়ায়।
-
এর মাধ্যমে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশকে স্বাবলম্বী করাই মোদী সরকারের মূল লক্ষ্য।
রেকর্ড নিলাম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: কেন্দ্রীয় খনি সচিব পীযূষ গোয়েল জানিয়েছেন, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে রেকর্ড ২১২টি খনিজ ব্লকের নিলাম করা হয়েছে। ২০১৫ সালে নিলাম ব্যবস্থা শুরু হওয়ার পর থেকে এটি একটি নজিরবিহীন সাফল্য। বর্তমানে ৭১টি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ব্লকের নিলাম সম্পন্ন হয়েছে, যা ভারতের শিল্পোন্নয়নে গতি আনবে।
সরকারের বার্তা: জি কিষাণ রেড্ডি স্পষ্ট করেছেন যে, সরকার খনি খাত থেকে শুধুমাত্র রাজস্ব আদায়ের জন্য কাজ করছে না, বরং ভারতকে খনিজ সম্পদে স্বনির্ভর করাই তাদের আসল উদ্দেশ্য। এই লক্ষ্যে বেসরকারি সংস্থাগলোকে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।