“ভোটের প্রতিশ্রুতিতে আমরা ভাঁওতা দিই না”, সিউড়ির সভা থেকে বিরোধীদের তুলোধনা মমতার!

সোমবার বীরভূমের সিউড়িতে আয়োজিত জনসভা থেকে বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচনের আগে জনসভা যখন তুঙ্গে, তখন তাঁর বক্তব্যে উঠে এল লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কর্মসংস্থান এবং বিজেপির ‘ভুয়ো’ প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ। মমতা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তৃণমূল যা কথা দেয়, তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে।
প্রতিশ্রুতি পালনে তৃণমূল বনাম বিজেপি: সিউড়ির সভা থেকে মমতা বলেন, “গতবার নির্বাচনে বলেছিলাম লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দেব। কথা রেখেছি। প্রথমে ৫০০ টাকা দিয়ে শুরু করেছিলাম, এখন তা বাড়িয়েছি। আমরা ভোটের প্রতিশ্রুতিতে কখনও ভাঁওতা দিই না।” এরপরই বিহারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি তোপ দাগেন, “বিহারে ভোটের আগে আট হাজার টাকা দিয়ে পরে ফেরত নিয়ে নিচ্ছে। আমি ভিডিও দেখাতে পারি। ওরা তিন হাজার দেওয়ার কথা বলছে, কখনও এক হাজার টাকা দিয়ে দেখেছে?”
কেন্দ্রীয় এজেন্সির ভয় ও অর্থ লেনদেন: বিজেপির দেওয়া অর্থের প্রতিশ্রুতি নিয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিজেপির কাছ থেকে একদম টাকা নেবেন না। কখনও ভুল করবেন না। আমার কাজ আপনাদের সতর্ক করা। প্রথমে অ্যাকাউন্ট বানিয়ে টাকা দেবে বলবে, তারপর কালো টাকা দিয়ে দেবে। আর তার পরেই শুরু হবে ইডি-সিবিআই-এর মামলা।” অর্থাৎ, আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে ভোটারদের কেন্দ্রীয় এজেন্সির জালে ফাঁসানো হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
কর্মসংস্থান নিয়ে মোদী সরকারকে তোপ: চাকরি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি আক্রমণ করেন মমতা। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “মোদীবাবুকে জিজ্ঞাসা করুন, কর্মসংস্থানের কী হল? ১২ বছর তো হল, সেই বছরে ২ কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতি কোথায় গেল? রেলে গ্যাংমান নেওয়া হয়নি, সেনায় পদ খালি।” তৃণমূল নেত্রীর দাবি, রাজ্যে শূন্যপদ পূরণ করতে গেলেই বিরোধীরা আদালতে মামলা করে কাজ আটকে দেয়।
এদিন সিউড়ির পর কাঁকসা সহ মোট চারটি জনসভা করার কথা রয়েছে মমতার। লড়াইয়ের ময়দানে নিজেকে ‘যোদ্ধা’ দাবি করে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে তাঁর আবেদন, “ভোটের দিন আমি যোদ্ধা হলে, আপনারা আমার সহযোদ্ধা হবেন তো?” ডেইলিয়ান্ট-এর পাঠকদের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সফর ও রাজনৈতিক বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।