ট্রাম্পের হুঙ্কার, বন্ধ হতে পারে হরমুজ প্রণালী! বিশ্ববাজারে কি তেলের দাম ২০০ ডলার ছোঁবে?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বহুল চর্চিত ‘শান্তি আলোচনা’ ব্যর্থ হতেই মেজাজ হারালেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে এবার সরাসরি বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন তিনি। ওয়াশিংটন, যারা এতদিন এই পথ খোলা রাখার জন্য ইরানকে বাধ্য করছিল, এখন তাদের মুখেই উল্টো সুর। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে তড়তড়িয়ে বাড়ছে অপরিশোধিত তেলের দাম, যা ইতিমধ্যেই ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

কেন এই হরমুজ প্রণালী নিয়ে এত উত্তেজনা?
হরমুজ প্রণালী ইরানের অর্থনীতির মূল ধমনী বা ‘লাইফলাইন’। এই পথ দিয়েই তেহরান তাদের সিংহভাগ তেল বিদেশে রফতানি করে। ট্রাম্প যদি এই পথ অবরুদ্ধ করেন, তবে ইরানের চারটি প্রধান বন্দর— খার্গ দ্বীপ, জাস্ক টার্মিনাল, বন্দর আব্বাস এবং বন্দর খোমেনি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মার্কিন নৌবাহিনী এখন সেই সমস্ত ইরানি জাহাজ আটকে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেগুলি আগে বিনা বাধায় যাতায়াত করত।

তেলের বাজারে বড় ধাক্কা:
সিএনএন-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান মার্চ মাস পর্যন্ত দৈনিক গড়ে ১৮ লক্ষ ব্যারেল তেল রফতানি করেছে। মার্কিন জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের মতে, আমেরিকা এর আগে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইরানকে একটি অস্থায়ী লাইসেন্স দিয়েছিল, যার ফলে ১৪০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বাজারে এসেছিল। কিন্তু ট্রাম্পের নয়া হার্ডলাইন নীতি এই সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে পারে। ফলস্বরূপ, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও ওমানের বিপদ:
ট্রাম্পের এই পদক্ষেপে কেবল ইরান নয়, প্রতিবেশী সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং ওমান থেকেও তেল পরিবহনে বড়সড় বাধার সৃষ্টি হচ্ছে। ওদিকে ইরান যুদ্ধের আবহেও তাদের রফতানি চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। পাকিস্তানের ব্যর্থ বৈঠকের পর এখন গোটা বিশ্বের নজর হরমুজ প্রণালীর দিকে। যদি সত্যিই এই পথ বন্ধ হয়, তবে তা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।