. রাত ৮টার ‘ডেডলাইন’-এর আগেই রাষ্ট্রপুঞ্জে নাটকীয় মোড়! ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের প্রস্তাবে ভেটো দিল রাশিয়া-চীন

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন ঘন কালো যুদ্ধের মেঘে ঢাকা। একদিকে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া রাত ৮টার (ইস্টার্ন টাইম) চরম সময়সীমা ঘনিয়ে আসছে, ঠিক তখনই রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে ঘটে গেল বড়সড় কূটনৈতিক সংঘাত। হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার লক্ষ্যে আনা আমেরিকার প্রস্তাবে ভেটো (Veto) প্রদান করল রাশিয়া ও চীন।
নিরাপত্তা পরিষদে কূটনৈতিক হার
নিরাপত্তা পরিষদের ভোটাভুটিতে প্রস্তাবের পক্ষে ১১টি দেশ ভোট দিলেও, রাশিয়া ও চীনের বিরোধিতায় তা শেষ পর্যন্ত খারিজ হয়ে যায়। পশ্চিমা কূটনীতিকদের দাবি, এই যুদ্ধের পেছনে রাশিয়ার শক্তিশালী গুপ্তচর নেটওয়ার্ক ইরানকে ছায়ার মতো সাহায্য করছে। এই ভেটো প্রদানের ঘটনা ট্রাম্পের দেওয়া আল্টিমেটামের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে হওয়ায় পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ইসলামাবাদে কী ঘটেছিল?
দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর আলোচনার পর ইসলামাবাদ থেকে কোনো সুখবর মেলেনি। আমেরিকা ও ইরানের প্রতিনিধিদলের মধ্যে আয়োজিত এই বৈঠক কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে। শান্তি ও যুদ্ধবিরতির যে ক্ষীণ আশা তৈরি হয়েছিল, তা এখন কার্যত বিলীন।
জেডি ভ্যান্সের কড়া বার্তা
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আলোচনার ব্যর্থতা নিয়ে সংবাদমাধ্যমকে বলেন:
“আমরা টানা ২১ ঘণ্টা ধরে কাজ করেছি, কিন্তু কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। আর এই ব্যর্থতা যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানের জন্যই বেশি দুঃসংবাদ বয়ে আনবে।”
ভ্যান্স আরও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আমেরিকার প্রধান লক্ষ্য হলো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা। তিনি জানান, তেহরানের পক্ষ থেকে পারমাণবিক সরঞ্জাম অর্জন না করার কোনো সুনির্দিষ্ট ও ইতিবাচক অঙ্গীকার না পাওয়ায় আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি।
পরবর্তী পরিস্থিতি কী?
ইসলামাবাদ আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় এবং রাষ্ট্রপুঞ্জে রাশিয়া-চীনের অনড় অবস্থানের ফলে ট্রাম্প প্রশাসন এখন কঠোর সামরিক পদক্ষেপের দিকে হাঁটতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে রাত ৮টার সময়সীমা পার হওয়ার পর পারস্য উপসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর গতিবিধি কোন দিকে যায়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা বিশ্ব।
নিউজ এডিটর নোট: ইরান-আমেরিকা এই সংঘাত এখন বিশ্বযুদ্ধের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে। একদিকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি আর অন্যদিকে মস্কো-বেইজিংয়ের প্রচ্ছন্ন মদত— এই ত্রিমুখী লড়াইয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে ধস নামার আশঙ্কা প্রবল। ডেইলিয়ান্ট প্রতি মুহূর্তের খবরের দিকে নজর রাখছে।