পশ্চিম এশিয়ায় এবার পুতিন-কূটনীতি! ট্রাম্প ব্যর্থ হতেই ইরান-আমেরিকা সংঘাত থামাতে আসরে রাশিয়া

পশ্চিম এশিয়ার আকাশ যখন যুদ্ধের মেঘে ঢেকেছে এবং আমেরিকা-ইরান শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে, ঠিক তখনই এক নতুন নাটকীয় মোড় নিল বিশ্ব রাজনীতি। মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি ফেরাতে এবার সরাসরি মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনের প্রস্তাব দিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ইরানের প্রেসিডেন্ট মসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে এক ফোনালাপে পুতিন এই ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন।
ক্রেমলিনের বড় বার্তা
ক্রেমলিন থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, পুতিন পশ্চিম এশিয়ার এই রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন। রুশ প্রেসিডেন্টের মতে, রাশিয়া এই অঞ্চলের পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং দীর্ঘমেয়াদী শান্তি স্থাপনে সব ধরনের সহযোগিতা ও মধ্যস্থতা করতে প্রস্তুত।
কেন হঠাৎ রাশিয়ার এই তৎপরতা?
সম্প্রতি পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার সরাসরি আলোচনা কোনো রফাসূত্র ছাড়াই ভেস্তে গেছে। আমেরিকার দাবি, ইরান পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে তাদের অনমনীয় অবস্থান থেকে সরেনি। অন্যদিকে, তেহরান পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এনেছে ওয়াশিংটনের ওপর। এই অচলবস্থার সুযোগ নিয়েই মস্কো এখন বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রভাব খাটাতে চাইছে।
ইতিহাস ও বর্তমান প্রেক্ষাপট
রাশিয়া আগেও এই ধরনের মধ্যস্থতার চেষ্টা করেছে। ২০২৫ সালেও যখন সংঘাত তীব্র রূপ নিয়েছিল, তখন পুতিন স্পষ্ট বলেছিলেন যে পারমাণবিক সমস্যার সমাধান যুদ্ধের বদলে আলোচনার টেবিলেই হওয়া উচিত। যদিও রাশিয়া নিজেই বর্তমানে ইউক্রেনের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে লিপ্ত, তবুও মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে তাদের এই সক্রিয়তা বিশ্ব কূটনীতিতে রাশিয়ার গুরুত্বকেই প্রমাণ করে।
বিশ্লেষকদের মত
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি আমেরিকা ও ইরান রাশিয়ার মধ্যস্থতা মেনে নেয়, তবে তা উত্তপ্ত পশ্চিম এশিয়ায় এক নতুন মোড় নিয়ে আসতে পারে। তবে ওয়াশিংটন এবং ইজরায়েল রাশিয়ার এই প্রস্তাবকে কতটা ইতিবাচকভাবে দেখবে, সেটাই এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন।
নিউজ এডিটর নোট: ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারি এবং রাশিয়ার এই শান্তির প্রস্তাব— এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে কোন পথে হাঁটবে ইরান? ডেইলিয়ান্ট প্রতি মুহূর্তের খবরের দিকে নজর রাখছে।