২০২৯ সালেই মহিলাদের ৩৩% সংরক্ষণ? খাড়গেকে বিশেষ চিঠি রিজিজুর, ১৬ এপ্রিল বসছে সংসদের ‘স্পেশাল সেশন’

২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনেই কি মহিলারা এক-তৃতীয়াংশ আসনে লড়ার সুযোগ পাবেন? এই প্রশ্নই এখন দিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দে তুঙ্গে। নারী শক্তি বন্দন আইন বা মহিলা সংরক্ষণ বিল দ্রুত কার্যকর করার লক্ষ্যে এবার সরাসরি রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গের দ্বারস্থ হলো মোদী সরকার। কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু খাড়গেকে চিঠি লিখে এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ বাস্তবায়নে কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলোর আন্তরিক সহায়তা চেয়েছেন।
কেন তড়িঘড়ি বিশেষ অধিবেশন?
২০২৩ সালে আইনটি পাস হলেও, মূল শর্ত অনুযায়ী ২০২৭ সালের আদমশুমারি ও সীমানা পুনর্নির্ধারণের (Delimitation) আগে এটি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল না। অর্থাৎ, সেক্ষেত্রে মহিলারা ২০৩৪ সালের আগে সংরক্ষণের সুবিধা পেতেন না। কিন্তু মোদী সরকার চাইছে ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচন থেকেই এই ব্যবস্থা চালু করতে। এর জন্য আইনে কিছু জরুরি সংশোধন প্রয়োজন। আর সেই উদ্দেশ্যেই আগামী ১৬ থেকে ১৮ এপ্রিল সংসদের তিন দিনের বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করা হয়েছে।
রিজিজুর চিঠির মূল বক্তব্য:
কিরেন রিজিজু তাঁর চিঠিতে উল্লেখ করেছেন:
-
সময় বয়ে যাচ্ছে: এখন পদক্ষেপ না নিলে ২০২৯-এর নির্বাচনেও মহিলারা সংরক্ষণের সুবিধা পাবেন না।
-
ঐকমত্যের ডাক: সমাজবাদী পার্টি, ডিএমকে এবং এনডিএ-র শরিকদের সঙ্গে ইতিমধ্যেই আলোচনা হয়েছে। সরকার বিরোধীদের সঙ্গে আরও আলোচনার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
-
নারীর ক্ষমতায়ন: এটি কোনো নির্দিষ্ট দলের নয়, বরং কোটি কোটি ভারতীয় নারীর দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।
সংসদে কী পরিবর্তন আসতে চলেছে?
সংশোধনীগুলো পাস হলে লোকসভার খোলনলচে বদলে যাবে:
-
আসন সংখ্যা বৃদ্ধি: লোকসভার মোট আসন সংখ্যা বেড়ে হবে ৮১৬।
-
মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসন: ৮১৬টি আসনের মধ্যে ২৭৩টি আসন সরাসরি মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
প্রধানমন্ত্রীর বার্তা:
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী লোকসভা ও রাজ্যসভার ফ্লোর লিডারদের চিঠি লিখে জানিয়েছেন যে, যেকোনো সমাজের প্রকৃত অগ্রগতি তখনই সম্ভব যখন নারীরা সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দেবেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ২০২৯ সালের নির্বাচন মহিলা সংরক্ষণসহ অনুষ্ঠিত হওয়া অপরিহার্য। এটি ভারতের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করবে।
নিউজ এডিটর নোট: ১৬ এপ্রিলের বিশেষ অধিবেশন ভারতের সংসদীয় ইতিহাসে এক মাইলফলক হতে পারে। বিরোধীরা এই সংশোধনীতে সায় দেন কি না, এখন সেটাই দেখার। ডেইলিয়ান্ট এই খবরের প্রতিটি মুহূর্তের আপডেট আপনাদের কাছে পৌঁছে দেবে।