দিল্লিতে বন্ধ হচ্ছে পেট্রোল-ডিজেল চালিত অ্যাপ ক্যাব ও ডেলিভারি বাইক? সরকারের নতুন ‘ইভি পলিসি’তে বড় চমক!

রাজধানীর বাতাসকে বিষমুক্ত করতে এবার কোমর বেঁধে নামল দিল্লি সরকার। দিল্লির দূষণ নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রকাশ করা হলো ‘ইভি পলিসি ২.০’ (EV Policy 2.0)-এর খসড়া। নতুন এই নীতিতে অ্যাপ-ভিত্তিক রাইড অ্যাগ্রিগেটর (যেমন ওলা, উবার) এবং ফুড বা গ্রোসারি ডেলিভারি সংস্থাগুলোর (যেমন জোমাটো, সুইগি) ওপর জারি করা হচ্ছে কঠোর বিধিনিষেধ।

পেট্রোল-ডিজেল যানে কোপ: কী বলছে নতুন নিয়ম?

খসড়া ইভি নীতি অনুযায়ী, ২০২৬ সাল থেকে ডেলিভারি ও রাইড অ্যাগ্রিগেটররা তাদের বহরে নতুন করে কোনো পেট্রোল বা ডিজেল চালিত অভ্যন্তরীণ দহন ইঞ্জিন (ICE) যুক্ত যান নিতে পারবে না।

  • ডেডলাইন: ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পর বিদ্যমান দুই-চাকার যান ও হালকা পণ্যবাহী যানগুলোকে পুরোপুরি বৈদ্যুতিক যানে (EV) রূপান্তর করতে হবে।

  • বিএস-৬ ছাড়: শুধুমাত্র চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত বিএস-৬ মানের বাইক যুক্ত করার অনুমতি থাকবে, যা পরবর্তীতে বাধ্যতামূলকভাবে বদলে ফেলতে হবে।

অটোরিকশায় বড় ভর্তুকি: পকেটে আসবে নগদ টাকা

বৈদ্যুতিক তিন চাকার যান বা ই-অটো জনপ্রিয় করতে বিপুল অঙ্কের প্রণোদনা প্রস্তাব করেছে সরকার:

  • প্রথম বছরে: নতুন ই-অটো কিনলে বা পুরোনো সিএনজি অটো বদলালে মিলবে ৫০,০০০ টাকা ভর্তুকি।

  • দ্বিতীয় ও তৃতীয় বছরে: ভর্তুকির পরিমাণ হবে যথাক্রমে ৪০,০০০ এবং ৩০,০০০ টাকা।

  • ২০২৭ সাল থেকে: দিল্লিতে শুধুমাত্র বৈদ্যুতিক অটোরিকশার নতুন রেজিস্ট্রেশন করা যাবে।

ব্যক্তিগত গাড়িতেও বিশেষ সুবিধা

দূষণ কমাতে কেবল বাণিজ্যিক নয়, ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারকারীদের জন্যও রয়েছে সুখবর। অনুমোদিত কেন্দ্র থেকে নিজের পুরোনো গাড়ি স্ক্র্যাপ করার পর সেই সার্টিফিকেট দেখিয়ে নতুন ইলেকট্রিক গাড়ি কিনলে বিশেষ ভর্তুকি পাওয়া যাবে। তবে স্ক্র্যাপ সার্টিফিকেট পাওয়ার ৬ মাসের মধ্যে গাড়িটি কিনতে হবে।

লক্ষ্য: দূষণমুক্ত দিল্লি ২০৩০

দিল্লি সরকারের মতে, দুই-চাকা ও তিন-চাকা এবং পণ্যবাহী যানবাহনগুলিই শহরের বায়ুদূষণের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী। তাই অ্যাগ্রিগেটর ফ্লিটকে সবার আগে টার্গেট করা হয়েছে। এই নীতির ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে দিল্লির রাজপথে পেট্রোল-ডিজেলের ধোঁয়া অনেকটাই কমে যাবে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।