ঘর সাজাতে ইরানি কার্পেট কিনছেন? সস্তায় নকল গছিয়ে দিচ্ছে না তো! আসল চেনার ৫টি মোক্ষম উপায় জানুন

আভিজাত্য আর ঐতিহ্যের মিশেল যদি কোথাও থাকে, তবে তা পারস্য বা ইরানি কার্পেটে। মুঘল আমল থেকে ভারতে এই কার্পেটের চাহিদা আকাশছোঁয়া। জটিল নকশা, প্রাকৃতিক সুতা আর দক্ষ কারিগরের হাতের জাদুতে তৈরি এই গালিচা যেমন শৌখিন, তেমনই টেকসই। কিন্তু বাজারের ভিড়ে আসল বলে আপনাকে চড়া দামে নকল কার্পেট গছিয়ে দিচ্ছে না তো?

দিল্লি থেকে মির্জাপুর— যেখানেই যান না কেন, আসল ইরানি কার্পেট চিনে নেওয়ার এই ৫টি গোপন টিপস আপনার কাজে আসবেই:

১. ঝালর দেখে সাবধান!

আসল পার্সিয়ান কার্পেটের ভিত্তি হলো এর ‘ঝালর’। গালিচা বুননের সময় যে সুতাগুলো অবশিষ্ট থাকে, সেগুলো দিয়েই ঝালর তৈরি হয়। কার্পেট উল্টে দেখুন, যদি ঝালরগুলো আলাদাভাবে আঠা দিয়ে লাগানো বা সেলাই করা থাকে, তবে বুঝবেন সেটি নির্ভেজাল নকল। আসলের ঝালর সবসময় কার্পেটের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়।

২. পেছনের অমসৃণতা আভিজাত্যের চিহ্ন

হাতে বোনা কার্পেট কখনও মেশিনের মতো নিখুঁত ফিনিশিং দেয় না। গালিচাটি উল্টে এর পেছনের দিকটি পরীক্ষা করুন। সেখানে হাতে বাঁধা গিঁট এবং নকশায় সামান্য অসম্পূর্ণতা থাকলে বুঝবেন এটিই আসল। মেশিনে তৈরি কার্পেটের পেছনের স্তর হয় নিখুঁত এবং প্লাস্টিকের মতো শক্ত।

৩. ছোঁয়ায় চিনুন আসল তন্তু

আসল ইরানি কার্পেট রেশম, পশম বা সুতি দিয়ে তৈরি হয়, যা স্পর্শ করলে অত্যন্ত নরম ও আরামদায়ক অনুভূত হবে। অন্যদিকে নকল কার্পেটে নাইলন বা পলিপ্রোপিলিন ব্যবহার করা হয়, যা স্পর্শ করলে ঠান্ডা ও কিছুটা খসখসে মনে হতে পারে।

৪. নকশার সামঞ্জস্যতা

মেশিনে তৈরি কার্পেটের নকশা ১০০ শতাংশ অভিন্ন ও নিখুঁত হয়। কিন্তু হাতের কাজ হলে নকশায় সামান্য হলেও সূক্ষ্ম পার্থক্য থাকবেই। রঙের গভীরতা (Brashing) এবং নকশার সূক্ষ্ম ভিন্নতাই বলে দেবে এটি কোনো দক্ষ কারিগরের হাতের অনন্য সৃষ্টি।

৫. ফাইবার বা পোড়ানো পরীক্ষা

এটি সবথেকে নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা। কার্পেটের একটি ছোট সুতা বা তন্তু নিয়ে আগুন ধরান। যদি সেটি দ্রুত পুড়ে ছাই হয়ে যায় এবং স্বাভাবিক ধোঁয়ার গন্ধ আসে, তবে সেটি প্রাকৃতিক। কিন্তু যদি সুতাটি গলে গিয়ে দলা পাকিয়ে যায় এবং প্লাস্টিক পোড়া উৎকট গন্ধ বের হয়, তবে বুঝবেন সেটি সিন্থেটিক বা নকল।

মনে রাখবেন: দিল্লির দরিয়াগঞ্জ বা ভাদোহির বাজারে দরদাম করার আগে এই কৌশলগুলো জানা থাকলে আপনার শখের কার্পেট কেনা হবে সার্থক।