পঞ্চম দা-কে কেন শেষবার দেখেননি আশা তাই? সুরের জাদুকর ও তাঁর ‘প্রিন্সেস’-এর অমর প্রেমগাথা

সঙ্গীত জগতের ইতিহাসে আশা ভোঁসলে ও আর. ডি. বর্মনের জুটি কেবল হাজার হাজার কালজয়ী গানের কারিগর নয়, বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার এক অনন্য নাম। আজ আশা তাই আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু রেখে গেছেন তাঁর ‘পঞ্চম দা’-র সঙ্গে কাটানো সেই সোনালী দিনগুলোর স্মৃতি।
সঙ্গীতের হাত ধরে শুরু সেই সফর
১৯৬০-এর দশকের গোড়ার দিকে কাজের সূত্রেই আলাপ হয়েছিল তাঁদের। আরডি বর্মন বা পঞ্চম দা ছিলেন নতুন সুরের জাদুকর, আর আশা ভোঁসলে ছিলেন এমন এক গায়িকা যিনি প্লেব্যাক গানের ধারা বদলে দিচ্ছিলেন। ছয় বছরের বয়সের ব্যবধান থাকলেও সঙ্গীতের প্রতি অনুরাগ তাঁদের এক সুতোয় বেঁধে দিয়েছিল।
প্রণয় থেকে পরিণয়
১৯৭০-এর দশকে তাঁদের প্রেম পূর্ণতা পায়। আরডি বর্মনের প্রথম বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর তাঁদের সম্পর্ক এক নতুন মোড় নেয়। তাঁরা হয়ে ওঠেন বলিউডের সবথেকে জনপ্রিয় ‘পাওয়ার কাপল’। তাঁদের পারস্পরিক বোঝাপড়া ‘তিসরি মঞ্জিল’ থেকে ‘ইজাজত’-এর মতো বহু অমর সৃষ্টি আমাদের উপহার দিয়েছে।
ব্যর্থতা ও বিষণ্ণতার দিনগুলো
কেরিয়ারের শেষ দিকে নতুনদের ভিড়ে কিছুটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন পঞ্চম দা। পরপর বেশ কিছু সিনেমা বক্স অফিসে ব্যর্থ হওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। সেই দুঃসময়েও ছায়ার মতো তাঁর পাশে ছিলেন আশা ভোঁসলে। তাঁদের শেষ বড় সাফল্য ছিল ‘১৯৪২: আ লাভ স্টোরি’, যা আজও প্রতিটি প্রেমিকের হৃদয়ে দোলা দেয়।
“আমি ওঁকে জীবিত দেখতে চাই”
আর. ডি. বর্মনের মৃত্যুর পর তাঁকে শেষ দেখা দেখতে যাননি আশা ভোঁসলে। এর পেছনে ছিল এক গভীর আর্তি। আশা তাই বলেছিলেন—
“আমি ওঁকে মৃত দেখতে পারি না। আমি ওঁকে সারাজীবন জীবিত দেখতে চাই।” স্বামীর অকাল প্রয়াণ মেনে নিতে পারেননি তিনি, তাই প্রিয় মানুষের শেষ মুহূর্তের সেই নিথর দেহ দেখার চেয়ে তাঁর হাসিখুশি মুখটাই স্মৃতিতে রাখতে চেয়েছিলেন গায়িকা।
১৩ এপ্রিল মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে আশা ভোঁসলের শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। সেখানে হয়তো আবার নতুন করে স্মৃতিতে ফিরে আসবেন পঞ্চম দা। তাঁদের প্রেমের গল্প আজ আর শুধু রূপালি পর্দায় নয়, সুরের মূর্ছনায় বেঁচে থাকবে চিরকাল।