কাঁদছে দুই বাংলা, শোকস্তব্ধ পাকিস্তানও! সুর সম্রাজ্ঞী আশা ভোঁসলের প্রয়াণে দুই দেশেই শোকের মাতম

সুরের কোনো সীমানা নেই, আর তা আরও একবার প্রমাণ হয়ে গেল কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলের প্রয়াণে। ৯২ বছর বয়সে তাঁর চলে যাওয়া কেবল ভারতের নয়, গোটা বিশ্বের সঙ্গীত জগতের এক অপূরণীয় ক্ষতি। লতা মঙ্গেশকরের পর এবার চিরতরে স্তব্ধ হয়ে গেল ‘আশা তাই’-এর জাদুকরী কণ্ঠও। প্রিয় গায়িকার প্রয়াণে শোকস্তব্ধ পাকিস্তানও, সে দেশের তাবড় তারকারা শ্রদ্ধা জানিয়েছেন এই মহাপ্রয়াণে।

সীমান্ত ছাড়িয়ে শোকের ছায়া

আশা ভোঁসলের কণ্ঠের জাদু পাকিস্তানেও ছিল সমান জনপ্রিয়। তাঁর মৃত্যু সংবাদে অভিনেতা আদনান সিদ্দিকী আবেগঘন বার্তায় লিখেছেন—

“নিঃশব্দ মুহূর্তগুলোকেও আবেগে ভরিয়ে তোলার ক্ষমতা ছিল তাঁর। আজ সেই নীরবতা বড় ভারী লাগছে। আপনার রেখে যাওয়া জাদুর জন্য ধন্যবাদ।”

জনপ্রিয় গায়ক ও অভিনেতা আলী জাফর শোক প্রকাশ করে বলেন, “এমন কণ্ঠ সময়ের সাথে মিলিয়ে যায় না, বরং সময়ের অংশ হয়ে ওঠে।” অভিনেতা আহসান খান, ইয়াসির হোসেন এবং গায়িকা সুজা হায়দারও কিংবদন্তি এই গায়িকাকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

৯২ বছরেও চিরসবুজ: ‘তওবা তওবা’ ঝড়ে কেঁপেছিল মঞ্চ

মৃত্যুর কিছুকাল আগেও আশা ভোঁসলে তাঁর অফুরন্ত প্রাণশক্তির পরিচয় দিয়েছিলেন। দুবাইয়ের এক কনসার্টে ভিকি কৌশলের ‘তওবা তওবা’ গানটি গেয়ে এবং তাঁর সিগনেচার স্টেপ করে বিশ্বকে অবাক করে দিয়েছিলেন তিনি। ১০ বছর বয়সে শুরু হওয়া তাঁর সেই গানের যাত্রা শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত একই সতেজতা ধরে রেখেছিল। ১২ হাজারেরও বেশি গান গেয়ে তিনি গড়েছিলেন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড।

শেষ যাত্রার প্রস্তুতি ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা

গত ১১ এপ্রিল অসুস্থতার কারণে তাঁকে মুম্বইয়ের ব্রীচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, একাধিক অঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়ার কারণে ১২ এপ্রিল তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

আগামীকাল, ১৩ এপ্রিলের সূচি:

  • শেষ শ্রদ্ধা: সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৩টে পর্যন্ত লোয়ার পারেলের বাসভবন ‘কাসা গ্রান্দে’-তে মরদেহ রাখা হবে।

  • অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া: বিকেল ৪টেয় শিবাজি পার্ক শ্মশানে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।

ভারতের রত্ন, সুরের রানি আশা ভোঁসলে শারীরিকভাবে চলে গেলেও তাঁর রেখে যাওয়া সুরের অমর সৃষ্টি যুগ যুগ ধরে সঙ্গীতপ্রেমীদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে।