সীমান্তে লালফৌজের নতুন চাল! PoK সংলগ্ন এলাকায় রহস্যময় শহর বানাচ্ছে চীন, টেনশনে ভারত?

লাদাখ থেকে অরুণাচল— ভারতের সঙ্গে সীমান্ত বিতর্ক জিইয়ে রেখেই এবার নতুন চাল চালল বেজিং। এবার পাকিস্তানের দখলকৃত কাশ্মীর (PoK) এবং আফগানিস্তান সীমান্তের ঠিক মাঝখানে আস্ত একটি ‘কাউন্টি’ বা জেলা তৈরি করেছে শি জিনপিং সরকার। যার নাম রাখা হয়েছে ‘সেনলিং’

কেন সেনলিং নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ?

চীনের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল জিনজিয়াং প্রদেশে অবস্থিত এই নতুন শহরটি সরাসরি পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর এবং আফগানিস্তানের ‘ওয়াখান করিডোর’-এর গা ঘেঁষে তৈরি করা হয়েছে।

  • টার্গেট উগ্রপন্থা: চীনের দাবি, মূলত উইঘুর জঙ্গিদের অনুপ্রবেশ রুখতে এবং সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার করতেই এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ।

  • কৌশলগত অবস্থান: এই কাউন্টিটি কারাকোরাম পাহাড়ের কোলে অবস্থিত। এখান থেকেই শুরু হয় বহুল বিতর্কিত CPEC (চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর) প্রকল্পের রাস্তা, যা PoK-র ভেতর দিয়ে যাওয়ায় ভারত প্রথম থেকেই কড়া বিরোধিতা করে আসছে।

এক বছরে তিনটি নতুন জেলা!

জিনজিয়াং প্রদেশে গত এক বছরে এটি চীনের তৈরি করা তৃতীয় কাউন্টি। এর আগে তারা ‘হীন’ এবং ‘হেকাং’ নামে আরও দুটি জেলা তৈরি করেছিল। উদ্বেগের বিষয় হলো, ‘হীন’ কাউন্টির বড় একটি অংশ ভারতের অকসাই চিন এলাকায় অবস্থিত, যা ১৯৬২ সাল থেকে চীন অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে। সেনলিং শহরটি আপাতত কাশগর প্রিফেকচারের অধীনে থাকবে।

ভারতের কড়া জবাব

চীনের এই নাম পরিবর্তনের রাজনীতি এবং সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় অবকাঠামো নির্মাণের প্রচেষ্টাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন:

“ভারত এই ধরণের কোনো দুষ্ট প্রচেষ্টাকে মান্যতা দেয় না। কোনো জায়গার কাল্পনিক বা মনগড়া নাম দিলে সত্য বদলে যায় না। অরুণাচল প্রদেশ থেকে শুরু করে বিতর্কিত এলাকাগুলো ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে এবং থাকবে।”

বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?

ফুদান ইউনিভার্সিটির প্রফেসর লিন মিনওয়াং মনে করেন, এই পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে চীন এখন সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় আরও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এর মাধ্যমে চীন ওই দুর্গম এলাকায় স্থায়ী জনবসতি গড়ে তুলে সামরিক শক্তিকে আরও সুসংহত করতে চাইছে।

ভারতের জন্য এটি দ্বিগুণ দুশ্চিন্তার কারণ। একদিকে PoK-তে চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি, অন্যদিকে আফগান সীমান্ত দিয়ে ভারতের ওপর নজরদারির সুযোগ— সব মিলিয়ে ড্রাগনের এই ‘সেনলিং’ চাল দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ সৃষ্টি করতে পারে।