. সঙ্গীত জগতে মহাপ্রলয়! ৯২ বছর বয়সে স্তব্ধ আশা ভোঁসলের জাদুকরী কণ্ঠ, সুরলোকে দিদির কাছেই পাড়ি দিলেন ‘আশা তাই’!

ভারতীয় সঙ্গীত জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের পতন হলো। ১২ই এপ্রিল, ২০২৬—বলিউড তথা বিশ্ব সঙ্গীতের ইতিহাসে এক কালো দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। ৯২ বছর বয়সে চিরবিদায় নিলেন সুরসম্রাজ্ঞী আশা ভোঁসলে। যাঁর কণ্ঠ দীর্ঘ আট দশক ধরে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে মাতিয়ে রেখেছিল, সেই চিরসবুজ ‘আশা তাই’ আজ পাড়ি দিলেন অমৃতলোকে। লতা মঙ্গেশকর, কিশোর কুমার, মহম্মদ রফি এবং মুকেশদের সেই কালজয়ী আসরে যোগ দিতেই যেন আজ বিদায় নিলেন তিনি।

এক অদম্য লড়াইয়ের নাম আশা ভোঁসলে

দিদি লতা মঙ্গেশকরের বিশাল ছায়ার নিচে থেকেও নিজের এক স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর ও পরিচয় তৈরি করেছিলেন আশা। ৮০ বছরের দীর্ঘ কেরিয়ারে ১২,০০০-এর বেশি গান গেয়ে তিনি গড়েছেন বিশ্বরেকর্ড। ব্যক্তিগত জীবনের শত প্রতিকূলতাও তাঁর সুরে কখনও বাধা হতে পারেনি। ৯০ বছর বয়সেও তাঁর কণ্ঠের সতেজতা তরুণ প্রজন্মকে টেক্কা দিত।

আশা ভোঁসলের অমর ১০টি গান: যা কখনও পুরনো হবে না

আশা তাই শরীরীভাবে আমাদের ছেড়ে গেলেও তাঁর এই সৃষ্টিগুলো থেকে যাবে আজীবন:

১. চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে জো দিল কো: আর. ডি. বর্মণের সুরে এই গানটি আজও রোমান্টিকতার শিখরে। ২. আভি না যাও ছোড়কর: দেব আনন্দের ছবির এই কালজয়ী গানটি আজও বিরহী হৃদয়ের সেরা সঙ্গী। ৩. ইন আঁখো কি মস্তি: ‘উমরাও জান’ ছবির এই গানটি আশা ভোঁসলের ক্লাসিক্যাল পারদর্শিতার প্রমাণ। ৪. সালোনা সা সজন হ্যায়: গজল সম্রাট গোলাম আলীর সঙ্গে এই নন-ফিল্মি অ্যালবাম গানটি আজও রিলস-এ ট্রেন্ডিং। ৫. জারা সা ঝুম লু ম্যায়: দেব আনন্দ থেকে শাহরুখ খান—সবার যুগেই তিনি ছিলেন সমান সাবলীল। কাজলের ওপর চিত্রায়িত এই গানটি আজও তারুণ্যে ভরা। ৬. ঝুমকা গিরা রে: আশা তাইয়ের নিজস্ব ছোঁয়া এই গানটিকে সর্বকালের সেরা ড্যান্স নম্বরে পরিণত করেছে। ৭. দিল চিজ কেয়া হ্যায়: উচ্চ স্বরগ্রামের জাদুতে এই গানটি আজও শ্রোতাদের চোখে জল আনে। ৮. মেরা কুছ সামান: গুলজারের লেখা এই গানে বিচ্ছেদের বেদনা ফুটিয়ে তুলে জাতীয় পুরস্কার ছিনিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। ৯. পিয়া তু আব তো আজা: পাশ্চাত্য ও ভারতীয় সুরের মেলবন্ধনে ক্যাবারে ড্যান্সের নতুন সংজ্ঞা লিখেছিলেন আশা। ১০. দম মারো দম: বিতর্কিত হলেও এই গানটি আশা ভোঁসলেকে বলিউডের ‘ট্রেন্ডসেটার’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল।

উপসংহার

সময় বদলেছে, সুর বদলেছে, কিন্তু আশা ভোঁসলের সতেজতা ছিল চিরস্থায়ী। তিনি কেবল একজন গায়িকা ছিলেন না, তিনি ছিলেন এক জীবন্ত প্রতিষ্ঠান। আজ বলিউড তার এক অকৃত্রিম বন্ধুকে হারালো। হয়তো ওপাড়ে লতা দিদি, কিশোর দা এবং রফি সাহেবদের সঙ্গে আবার নতুন কোনো সুরের আসর বসাবেন আমাদের সবার প্রিয় ‘আশা তাই’।