বোতাম টিপলে মেশিনের ভেতরে কী হয়? ভোট দেওয়ার আগে জেনে নিন ইভিএম-এর গোপন ম্যাজিক!

সামনেই পশ্চিমবঙ্গের হাই-ভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচন। আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভাগ্য নির্ধারিত হবে ২৯৪টি আসনের প্রার্থীদের। প্রায় সাত কোটি ভোটার তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করবেন ইভিএম (EVM) বা ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে। কিন্তু অনেকেই জানেন না, ভোট দেওয়ার ওই কয়েক সেকেন্ডে মেশিনের ভেতর ঠিক কী ঘটে।
ইভিএম-এর দুই মূর্ত প্রতীক: ব্যালট ও কন্ট্রোল ইউনিট একটি ইভিএম মূলত দু’টি প্রধান অংশ নিয়ে গঠিত:
-
ব্যালট ইউনিট: এটি থাকে ভোটদান কক্ষের ভেতরে। এখানে প্রার্থীদের নাম, দলীয় প্রতীক এবং পাশে একটি করে নীল রঙের বোতাম থাকে।
-
কন্ট্রোল ইউনিট: এটি থাকে ভোটগ্রহণ আধিকারিকদের হাতে। তাঁরা অনুমতি দিলে তবেই ব্যালট ইউনিটে ভোট দেওয়া সম্ভব হয়।
ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া ও ভিভিপ্যাট (VVPAT) ভোটার যখন তাঁর পছন্দের প্রার্থীর পাশের বোতামটি চাপেন, তখন একটি মৃদু ‘বিপ’ শব্দ হয়। এর সঙ্গেই বর্তমানে যুক্ত হয়েছে ভিভিপ্যাট যন্ত্র। বোতাম টেপার পর এই যন্ত্রের স্বচ্ছ জানালার মধ্য দিয়ে একটি ছোট কাগজের স্লিপ দেখা যায়। সেখানে প্রার্থীর নাম ও প্রতীক দেখে ভোটার নিশ্চিত হতে পারেন যে তাঁর ভোটটি সঠিক জায়গায় পড়েছে। ৭ সেকেন্ড পর সেই স্লিপটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি বাক্সে জমা পড়ে যায়।
নিরাপত্তার ‘স্ট্রং’ ব্যবস্থা ভোট শুরু হওয়ার আগে পোলিং এজেন্টদের সামনে হয় ‘মক পোল’ বা মহড়া ভোট। যাতে কেউ মেশিনে কারচুপির সন্দেহ না করতে পারে। ভোট শেষে মেশিন সিলগালা করে নিয়ে যাওয়া হয় ‘স্ট্রং রুম’-এ। সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া পাহারায় ৪ মে অর্থাৎ গণনার দিন পর্যন্ত মেশিনগুলি বন্দি থাকে।
কেন ইভিএম-ই সেরা? নির্বাচন কমিশনের মতে, ইভিএম ব্যবহারের ফলে:
-
কাগজের ব্যালটের অপচয় কমে।
-
ভোট গণনায় ভুল হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় থাকে না বললেই চলে।
-
ফলাফল দ্রুত ঘোষণা করা সম্ভব হয়।
-
জালিয়াতি বা বুথ দখলের চেষ্টা সহজেই রুখে দেওয়া যায়।
প্রতিটি স্তরে কঠোর নজরদারি এবং ভিভিপ্যাট-এর মতো যাচাইকরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্বাচনকে স্বচ্ছ ও অবাধ রাখাই কমিশনের মূল লক্ষ্য। তাই নিশ্চিন্তে ভোট দিন এবং গণতন্ত্রের উৎসবে সামিল হোন।