রাতের অন্ধকারে বিজেপির পতাকায় আগুন! বক্সিরহাটে রণক্ষেত্র, তুফানগঞ্জে অবরোধে স্তব্ধ রাজ্য সড়ক

ভোট যত এগিয়ে আসছে, উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক পারদ ততই চড়ছে। এবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল তুফানগঞ্জ-২ ব্লকের বক্সিরহাট এলাকা। রাতের অন্ধকারে বিজেপির দলীয় পতাকা ছিঁড়ে ফেলা এবং নির্বাচনী ব্যানারে অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার সকালে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় ভানুকুমারী-১ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা। ঘটনার প্রতিবাদে দীর্ঘক্ষণ রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মীরা।
ঘটনার সূত্রপাত বিজেপি কর্মীদের দাবি, রবিবার সকালে তাঁরা দেখতে পান রাস্তার ধারে লাগানো দলের পতাকাগুলি ছিঁড়ে নর্দমায় ফেলে দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রার্থীর সমর্থনে লাগানো একাধিক বড় ব্যানারে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে দুষ্কৃতীরা। অভিযোগের তির সরাসরি শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে।
রাজ্য সড়ক অবরোধ ও পুলিশের দৌড়ঝাঁপ এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বিজেপি নেতা-কর্মীরা। দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে তাঁরা রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এর ফলে রাস্তার দু’দিকেই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, চরম ভোগান্তিতে পড়েন নিত্যযাত্রীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বক্সিরহাট থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুলিশের কড়া পদক্ষেপের আশ্বাসে প্রায় ঘণ্টাখানেক পর অবরোধ ওঠে।
তপ্ত রাজনৈতিক চাপানউতোর বিজেপির তুফানগঞ্জ বিধানসভার কনভেনার বিমল পাল কড়া সুরে বলেন, “তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতির উপস্থিতিতেই পরিকল্পিতভাবে এই হামলা হয়েছে। প্রশাসন ব্যবস্থা না নিলে আমরা আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামব।”
পাল্টা জবাবে তৃণমূলের ভানুকুমারী-১ অঞ্চল সভাপতি বরেনচন্দ্র সরকার সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, “তৃণমূল আদর্শের রাজনীতি করে, এই নোংরামি আমরা করি না। বিজেপির নিজেদের গোষ্ঠীকোন্দলের ফলেই এই ঘটনা ঘটেছে।”
ভোটের মুখে বক্সিরহাটের এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ জেলা প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।