“মেয়েদের অন্তর্বাস-লিপস্টিক টেনে বের করা হচ্ছে!” শ্রীময়ীর অপমানে রণংদেহি মমতা, কমিশনকে চরম হুঁশিয়ারি

ভোটের মুখে নারী নিরাপত্তা নিয়ে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। একদিকে যখন নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহ বাংলার নারী সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, ঠিক তখনই পাল্টা আক্রমণে নামলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষের সভা থেকে নাকা চেকিংয়ের নামে মহিলাদের ‘অসম্মান’ এবং অভিনেত্রী শ্রীময়ী চট্টরাজের হেনস্তা নিয়ে কার্যত আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়লেন মুখ্যমন্ত্রী।

“মেয়েদের ব্যাগে কী খুঁজছে?”— প্রশ্ন মমতার তৃণমূল বিধায়ক কাঞ্চন মল্লিকের স্ত্রী শ্রীময়ী চট্টরাজকে নাকা চেকিংয়ের সময় হেনস্তা করার অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, “মেয়েদের শরীর চেক করা হচ্ছে। গতকালও কাঞ্চন মল্লিকের বউয়ের উপর হ্যারাসমেন্ট হয়েছে। চেক করার নামে মেয়েদের ব্যাগ খুলে তাঁদের ব্যবহৃত ব্যক্তিগত জিনিস—লজ্জা লাগে বলতে—সেগুলো পর্যন্ত টেনে টেনে বের করে অসম্মান করা হয়েছে। এটা অশ্লীলতার চূড়ান্ত!”

নির্বাচন কমিশনের কর্মীদের সরাসরি চ্যালেঞ্জ করে তিনি বলেন, “মেয়েদের ব্যাগে লিপস্টিক আছে না ফেসিয়াল কিট—সেটা দেখার অধিকার আপনাদের কে দিল? আপনারা কি সেগুলো ব্যবহার করবেন? অশ্লীলতা করলে মহিলারা অভিযোগ করুন, ভয় পাবেন না।”

“ঝাড়ু হাতে তৈরি থাকুন মা-বোনেরা” ভোটের দিন কোনো বাধা এলে তার মোকাবিলা করার জন্য এক নজিরবিহীন ‘দাওয়াই’ দিলেন তৃণমূল নেত্রী। রথযাত্রার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “জগন্নাথ দেবের রথ টানার আগে যেমন সোনার ঝাড়ু দিয়ে রাস্তা সাফ করা হয়, আপনারাও ভোটের দিন একটা করে খিলের ঝাড়ু রেখে দিন। কেউ বাধা দিলে রাস্তা পরিষ্কার করতে করতে ভোটকেন্দ্রে যাবেন।”

মোদী-শাহকে ‘মোটা ভাই’ ও ‘কোকিল’ খোঁচা এদিন প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করতেও ছাড়েননি মমতা। তাঁর শ্লেষাত্মক মন্তব্য:

  • মোদী-শাহকে আক্রমণ: “মাননীয় আমোদি-প্রমোদি মন্ত্রীরা আর ওই মোটা ভাই, তোমরা কি গ্রামগঞ্জের খবর রাখো?”

  • কোকিলের উপমা: “বিজেপি হলো কোকিলের বাচ্চার মতো। কাকের বাসায় জন্মায়, আর বড় হলে উড়ে যায়। ভোটের সময় আসে, তারপর আর দেখা মেলে না।”

  • মিথ্যের ঝুড়ি: “মেয়েরা পরে চুরি, ওরা বলে মিথ্যের ঝুড়ি। বিজেপি যা বলে তা কোনোদিন করে না।”

শেষ কথা রাজ্যে নির্বাচনের নামে মহিলাদের হেনস্তা এবং ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া নিয়ে এদিন চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সাফ কথা, প্রশাসনের রাশ কমিশনের হাতে থাকলেও লড়াই হবে রাজপথে। আর সেই লড়াইয়ে ঝাড়ু হাতে ‘রাস্তা সাফ’ করার ডাক দিয়ে ভোটের উত্তাপ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিলেন তিনি।