“উনি ছিলেন সঙ্গীতের দেবী…” আশাজির প্রয়াণে কান্নায় ভেঙে পড়লেন ঋতুপর্ণা-অন্তরা, বাকরুদ্ধ অজয় চক্রবর্তী

ক্যালেন্ডারের পাতায় আজ রবিবার, কিন্তু সুরের দুনিয়ায় এই দিনটি যেন চিরদিনের জন্য কালো হয়ে রইল। মাত্র কিছুকাল আগেই টলিউড হারিয়েছিল অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়কে; আর আজ সেই অভিশপ্ত রবিবারেই নিভে গেল ভারতীয় সঙ্গীতের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র আশা ভোঁসলে। ৯২ বছর বয়সে সুরের জাদুকরের এই প্রস্থান যেন মেনে নিতে পারছে না কেউই।

“সঙ্গীতের স্তম্ভ খুঁটি নড়ে গেল”: অন্তরা মিত্র আশাজির প্রয়াণে গভীর শোকাহত সঙ্গীতশিল্পী অন্তরা মিত্র। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, “ভারতীয় সঙ্গীত দুনিয়ার স্তম্ভ চলে গেলেন। আশা’জি ছিলেন একজন পাওয়ার হাউজ। গত বছরও দুবাইতে ওঁর পারফরম্যান্স ছিল দেখার মতো। ওয়েস্টার্ন থেকে গজল, কিংবা সেমি ক্লাসিক্যাল—সবক্ষেত্রেই ওঁর সমকক্ষ কেউ ছিল না। আমি নিজেকে ভাগ্যবতী মনে করি যে ওঁর ৮৫তম জন্মদিনে কাছে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলাম।”

“তিনি এন্টারটেইনমেন্টের শেষ কথা”: ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত কিংবদন্তি এই শিল্পীকে ‘সঙ্গীতের দেবী’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। তিনি বলেন, “আমি খুব ভাগ্যবান যে আমার অভিনীত একাধিক সিনেমায় উনি প্লেব্যাক করেছেন। ওঁর গানে লিপ দিতে পারাটা আমার জীবনের বড় পাওনা। এমন শিল্পীরা কখনও চলে যান না, তাঁরা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য অমর হয়ে থেকে যান। ৯২ বছর বয়স পর্যন্ত যেভাবে উনি মানুষকে মুগ্ধ করেছেন, তাতে বলতেই হয় উনিই এন্টারটেইনমেন্টের শেষ কথা।”

বাকরুদ্ধ পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী সুরের সরস্বতীর বিদায়ে গলা বুজে এল পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তীর। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার শক্তিটুকুও যেন হারিয়ে ফেলেছেন তিনি। ভারাক্রান্ত গলায় তাঁর সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া, “আমার আর কিছু বলতে ভালো লাগছে না। আজ অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গেল। উনি যেখানেই থাকুন, ভালো থাকুন।”

অমর সুরের সফর “জাইয়ে আপ কঁহা জায়েঙ্গে…”—কিংবদন্তি শিল্পীর এই গান আজ যেন ধ্রুব সত্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। লালবাজার থেকে টলিউড, সর্বত্র আজ বিষাদের ছায়া। শিল্পীর প্রয়াণ হলেও তাঁর সৃষ্টি যে কয়েক যুগ ধরে সঙ্গীতপ্রেমীদের হৃদয়ে অমর হয়ে থাকবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।