“অস্ত্র পাঠালে বিপদ হবে!” চিনকে সরাসরি যুদ্ধের হুমকি ট্রাম্পের, মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে চরম উত্তেজনায় বিশ্ব

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মেঘ কাটতে না কাটতেই এবার চিনের ওপর গর্জে উঠলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে ইসলামাবাদে চলা শান্তি আলোচনা কোনো সমাধান ছাড়াই ব্যর্থ হওয়ার পর, এবার বেজিংকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি। ট্রাম্পের সাফ কথা— ইরানকে অস্ত্র জোগালে চিনকে ‘গুরুতর পরিণাম’ ভোগ করতে হবে।
কেন হঠাৎ চিনের ওপর খড়্গহস্ত ট্রাম্প?
মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ছয় সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির সুযোগ নিয়ে ইরান নিজের আকাশপথের সুরক্ষা বা এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম মজবুত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। আর এই কাজে তলে তলে সাহায্য করছে চিন। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বেজিং ইরানের কাছে উন্নত মানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাতে পারে বলে আশঙ্কা করছে ওয়াশিংটন।
সাংবাদিক বৈঠকে এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প মেজাজ হারিয়ে বলেন, “যদি চিন এমনটা করে, তবে তাদের বড় বিপদের সম্মুখীন হতে হবে।”
শুল্ক যুদ্ধের হুঁশিয়ারি: ৫০% ট্যাক্স!
ট্রাম্পের রানিং মেট জেডি ভ্যান্স ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তেহরানকে যারা অস্ত্র সরবরাহ করবে, সেই সব দেশের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক (Tariff) আরোপ করতে পারেন প্রেসিডেন্ট। যদি এটি কার্যকর হয়, তবে চিনের অর্থনীতিতে বড় ধস নামতে পারে এবং আমেরিকা-চিন বাণিজ্য চুক্তি পুরোপুরি ভেস্তে যেতে পারে।
চিনের পাল্টা জবাব
বেজিং অবশ্য সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। চিনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মুখপাত্র ঝাং শিয়াওগাং জানিয়েছেন, ইরানকে কোনো সামরিক প্রযুক্তি বা স্যাটেলাইট চিত্র দিয়ে তারা সাহায্য করছে না। চিনের বিরুদ্ধে মিথ্যে তথ্য প্রচার করা হচ্ছে বলেও তিনি কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
ইসলামাবাদ আলোচনার ব্যর্থতা ও অনিশ্চয়তা
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে যে শান্তি আলোচনা চলছিল, সেখানে পারমাণবিক অস্ত্র সংক্রান্ত বিষয়ে অচলাবস্থা কাটেনি। এর ফলে ছয় সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় বড় আকারের যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একদিকে ট্রাম্পের কড়া অবস্থান, অন্যদিকে চিনের ইরান-ঘেঁষা নীতি— সব মিলিয়ে বিশ্ব রাজনীতি এখন এক অস্থির সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে।