“এই তো সেদিন বিদেশ থেকে…”-আশা ভোঁসলের প্রয়াণে কান্নায় ভেঙে পড়লেন হৈমন্তী শুক্লা।

ভারতীয় সঙ্গীত জগতের এক অপূরণীয় ক্ষতি। ৯২ বছর বয়সে সুরের মায়া কাটিয়ে পরলোকে পাড়ি দিলেন কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলে। লতা মঙ্গেশকরের পর তাঁর ছোট বোন আশার এই চলে যাওয়া যেন ভারতীয় সঙ্গীত ইতিহাসের একটি স্বর্ণযুগের অবসান। তাঁর প্রয়াণের খবরে শোকস্তব্ধ আপামর ভারতবাসী।

‘মাথা থেকে ছাতা সরে গেল’: আবেগপ্রবণ হৈমন্তী

আশা ভোঁসলের প্রয়াণে নিজের শোকবার্তা জানাতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাংলার প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী হৈমন্তী শুক্লা। তিনি বলেন:

‘ভাবতেই পারছি না আশাদি আর নেই। এই তো সেদিন বিদেশ থেকে অনুষ্ঠান করে এলেন। জানি বয়সটা বড় ফ্যাক্টর, তবুও… লতাদির চলে যাওয়ার পর আশাদি-ই ছিলেন আমাদের সবার মাথার ওপর একটা বড় ভরসা। আজ মনে হচ্ছে মাথা থেকে ছাতাটা সরে গেল।’

সাত দশকের সুরেলা সফর

দীর্ঘ সাত দশকেরও বেশি সময়ের কেরিয়ারে আশা ভোঁসলে উপহার দিয়েছেন কয়েক হাজার কালজয়ী গান। ২০টিরও বেশি ভাষায় তাঁর কণ্ঠের জাদু ছড়িয়ে পড়েছে।

  • কালজয়ী সৃষ্টি: ‘দম মারো দম’, ‘চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে’ থেকে শুরু করে জনপ্রিয় বাংলা গান ‘আজ এই দিনটাকে’—তাঁর কণ্ঠ আজও অমলিন।

  • সম্মাননা: সঙ্গীত জগতে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি পেয়েছেন দাদাসাহেব ফালকে, পদ্মবিভূষণ এবং একাধিক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।

এক যুগের অবসান

১৯৩৩ সালে জন্ম নেওয়া এই সুর সম্রাজ্ঞী ৯২ বছর বয়সেও ছিলেন প্রাণবন্ত। সঙ্গীত বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাঁর চলে যাওয়া মানে শুধু একজন শিল্পীর বিদায় নয়, একটি আস্ত প্রতিষ্ঠানের অবসান। সুরের জগতে যে শূন্যতা তিনি রেখে গেলেন, তা কোনোদিন পূরণ হওয়ার নয়।