ফুঁসছে ওমান সাগর, তারই মাঝে দুঃসাহসিক জয়! ২২,৪০০ টন গ্যাস নিয়ে ভারতের দিকে ‘জাগ বিক্রম’, কমবে কি রান্নার গ্যাসের দাম?

যুদ্ধবিধ্বস্ত পশ্চিম এশিয়ার বুক চিরে মুম্বইয়ের দিকে ধেয়ে আসছে এক স্বস্তির খবর। অবশেষে খিল খুলেছে বিশ্বের সবথেকে বিপজ্জনক জলপথ হরমুজ প্রণালীর। আর সেই পথ দিয়েই ২২,৪০০ মেট্রিক টন তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (LPG) নিয়ে নিরাপদে বেরিয়ে এল ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ ‘জাগ বিক্রম’ (Jag Vikram)।
যুদ্ধের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে জয়যাত্রা
ইরান ও আমেরিকার বিধ্বংসী যুদ্ধের জেরে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কার্যত অবরুদ্ধ ছিল হরমুজ প্রণালী। বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের এক বিশাল অংশ এই সরু জলপথ দিয়ে যাতায়াত করে। যুদ্ধের ফলে ভারতের কয়েক ডজন এলপিজি ট্যাঙ্কার মাঝসমুদ্রে আটকে পড়েছিল, যার প্রভাব সরাসরি পড়েছিল দেশের রান্নার গ্যাসের বাজারে। তৈরি হয়েছিল তীব্র ঘাটতি।
কবে মিলবে মুক্তি?
মুম্বইয়ের ‘গ্রেট ইস্টার্ন শিপিং কোম্পানি’র মালিকানাধীন এই জাহাজটি গত কয়েকদিন ধরে হরমুজের পশ্চিম প্রান্তে উৎকণ্ঠায় দিন কাটছিল। তবে ইরান-মার্কিন অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হতেই ঝুঁকি নেয় ভারত। শুক্রবার রাতে ভারতীয় নৌবাহিনীর কড়া নজরদারিতে ওমান সাগরের দিকে এগোতে শুরু করে জাগ বিক্রম। বর্তমানে এটি গাল্ফ অব ওমানে রয়েছে এবং আগামী ১৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে মুম্বই বন্দরে নোঙর করার কথা।
আমজনতার রান্নাঘরে স্বস্তি
এই খবর শুধু একটি জাহাজের নিরাপদে ফেরা নয়, বরং দেশের রান্নার গ্যাস সরবরাহে স্বাভাবিকতা ফেরার ইঙ্গিত। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রণালয় জানিয়েছে:
-
জাহাজে থাকা সমস্ত ভারতীয় নাবিক সুরক্ষিত আছেন।
-
এই ২২,৪০০ টন গ্যাস দেশে পৌঁছালে রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার সরবরাহে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই মিটবে।
-
দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক হলে বাজারে এলপিজি-র দাম কমার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহে গ্রাম ও মফস্বলের নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো রান্নার গ্যাসের আকাল নিয়ে যে দুশ্চিন্তায় ছিল, জাগ বিক্রম-এর এই সফল যাত্রা সেই উদ্বেগ অনেকটাই কমিয়ে দিল। ভারত সরকার এখন কূটনৈতিক পথে আটকে পড়া বাকি জাহাজগুলোকেও দ্রুত ফেরানোর চেষ্টা চালাচ্ছে।