ডিজ়েল নিয়ে কেন্দ্রের সার্জিক্যাল স্ট্রাইক! একধাক্কায় ৩৪ টাকা বাড়ল শুল্ক, সাধারণ মানুষের পকেটে কি টান পড়বে?

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির আঁচ এবার সরাসরি ভারতের জ্বালানি বাজারে। ইরান ও আমেরিকার উত্তপ্ত পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে যখন অস্থিরতা তুঙ্গে, তখনই ডিজ়েল ও বিমান জ্বালানি (ATF) নিয়ে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র সরকার। দেশীয় বাজারে তেলের জোগান স্বাভাবিক রাখতে ডিজ়েল রপ্তানির ওপর একধাক্কায় শুল্ক বাড়ানো হলো প্রায় ৩৪ টাকা

কেন এই বিশাল শুল্ক বৃদ্ধি?

সাধারণত তেল শোধনাগার সংস্থাগুলি যখন আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেশি পায়, তখন তারা অভ্যন্তরীণ বাজারের চাহিদা উপেক্ষা করে বিদেশে তেল রপ্তানি করতে পছন্দ করে। এতে দেশের বাজারে তেলের সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে। কেন্দ্রের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে ডিজ়েল রপ্তানি করা আগের চেয়ে অনেক বেশি ব্যয়বহুল হবে, যার ফলে সংস্থাগুলি বিদেশের বদলে দেশের বাজারেই তেল সরবরাহে বাধ্য হবে।

শুল্কের নতুন অংক এক নজরে:

  • ডিজ়েল রপ্তানি শুল্ক: প্রতি লিটারে ২১.৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে করা হলো ৫৫.৫ টাকা (অর্থাৎ সরাসরি ৩৪ টাকা বৃদ্ধি)।

  • বিমান জ্বালানি (ATF): প্রতি লিটারে ২৯.৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে করা হলো ৪২ টাকা

  • হাই-স্পিড ডিজ়েল: আবগারি শুল্ক বাড়িয়ে করা হয়েছে ২৪ টাকা।

  • পেট্রল: তবে স্বস্তির খবর হলো, পেট্রল রপ্তানির ওপর নতুন কোনো কর চাপানো হয়নি।

সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব কী?

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই শুল্ক বৃদ্ধি করা হয়েছে শুধুমাত্র রপ্তানির ক্ষেত্রে। অর্থাৎ, দেশের ভেতরে খুচরো বাজারে পেট্রল বা ডিজ়েলের দাম সরাসরি বেড়ে যাওয়ার কোনো খবর নেই। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো দেশের মানুষের জন্য তেলের ভাণ্ডার সুরক্ষিত রাখা এবং যুদ্ধের পরিস্থিতিতে কোনোভাবেই যেন দেশে জ্বালানি সংকট তৈরি না হয়।

হরমুজ় প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যেখানে বিশ্বে গ্যাসের দাম চড়চড় করে বাড়ছে, সেখানে ভারত সরকারের এই ‘প্রতিরক্ষামূলক’ পদক্ষেপ দেশের মধ্যবিত্তের জন্য আখেরে লাভদায়ক হবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।