‘লজ্জা করে না? মেয়েদের ব্যাগে কি লিপস্টিক খুঁজছেন?’ শ্রীময়ী হেনস্থা কাণ্ডে পুলিশকে ধুয়ে দিলেন মমতা!

ভোটের মুখে নাকা চেকিংয়ের নামে মহিলাদের হেনস্থার অভিযোগে এবার সরাসরি রণংদেহি মেজাজে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিনেত্রী শ্রীময়ী চট্টরাজের ব্যাগ থেকে স্যানিটারি প্যাড ও অন্তর্বাস বের করার অভিযোগ নিয়ে রবিবার বর্ধমানের খণ্ডঘোষের সভা থেকে পুলিশ ও প্রশাসনকে তুলোধনা করলেন তিনি।

‘লিপস্টিক পরবেন না কি ফেসিয়াল করবেন?’

তালিগঞ্জ ফাঁড়ি চত্বরে কাঞ্চন-পত্নী শ্রীময়ীর সাথে ঘটা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মমতা বলেন:

“চেক করার নামে অশ্লীলতা হচ্ছে। মেয়েদের ব্যক্তিগত জিনিস প্রকাশ্যে বার করে অপমান করা হচ্ছে। লজ্জা লাগে বলতে, মেয়েদের ব্যবহৃত জিনিস টেনে টেনে বার করা হচ্ছে। কেন? আপনারা কি লিপস্টিক পরবেন? না কি ফেসিয়াল করবেন?”

ভবানীপুরেও একই ‘জুলুম’!

মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, শুধু শ্রীময়ী নন, তাঁর নিজের এলাকা ভবানীপুরের এক বর্ষীয়ান মহিলাকেও একইভাবে হেনস্থা করা হয়েছে। গাড়িতে তল্লাশি চালানো নিয়ে তাঁর আপত্তি নেই, কিন্তু মহিলাদের ব্যাগে হাত দেওয়া এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নষ্ট করার বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নেবেন না বলে স্পষ্ট জানান তিনি।

নারীবাহিনীকে বিশেষ পরামর্শ

মমতা এদিন প্রকাশ্য সভা থেকে মহিলাদের অভয় দিয়ে বলেন, “যারা চেক করার নামে এই ধরণের অশ্লীলতা করছে, তাদের বিরুদ্ধে সোজাসুজি কমপ্লেন (অভিযোগ) জানান।” রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের আগে মহিলা ভোটারদের সেন্টিমেন্টকে উসকে দিতেই এই ‘ব্যক্তিগত মর্যাদা’র ইস্যুটিকে হাতিয়ার করলেন তৃণমূল নেত্রী।

NRC ও ভোটার তালিকায় কোপ?

এদিন শুধু ব্যাগ বিতর্ক নয়, ভোটার তালিকা থেকে বিপুল নাম বাদ দেওয়া নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। এনআরসি (NRC) ও ডিলিমিটেশনের ভয় দেখিয়ে তিনি বলেন, “মানুষের সব অধিকার কেড়ে নেওয়ার ছক কষা হচ্ছে।”

শ্রীময়ী চট্টরাজের সেই বিস্ফোরক ফেসবুক লাইভের পর মুখ্যমন্ত্রীর এই সরাসরি হস্তক্ষেপ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক উসকে দিল।