বাংলার ভোট-ময়দানে এবার ‘বুলডোজার’ এন্ট্রি! ১২ জনসভা দিয়ে ঝড় তুলতে আসছেন যোগী

লোকসভা নির্বাচনের আবহে বাংলার রাজনৈতিক তাপমাত্রা এবার চরমে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পর এবার বঙ্গে ঝোড়ো প্রচারে নামছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপির ‘পোস্টার বয়’ যোগী আদিত্যনাথ। গেরুয়া শিবির সূত্রে খবর, রাজ্যে প্রায় এক ডজন অর্থাৎ ১২টি হাইভোল্টেজ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি।

রবিবার থেকেই ‘মিশন বাংলা’: বিজেপির অন্দরের খবর অনুযায়ী, আগামীকাল রবিবার থেকেই বঙ্গে প্রচারের ইনিংস শুরু করছেন যোগী। প্রথম দিনেই তাঁর গন্তব্য বাঁকুড়ার পাত্রসায়র এবং পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি। এই দুই জেলায় বড়সড় জনসভার মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারের সুর বেঁধে দেবেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রয়োজনে এই ১২টি সভার সংখ্যা আরও বাড়তে পারে, যা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে বাংলার ভোটে যোগীকে পূর্ণ শক্তিতে ব্যবহার করতে চাইছে দিল্লির নেতৃত্ব।

কেন যোগীই বিজেপির ট্রাম্প কার্ড? বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের কাছে যোগী আদিত্যনাথ শুধু একজন মুখ্যমন্ত্রী নন, বরং তিনি ‘হিন্দুত্ব’ রাজনীতির এক বলিষ্ঠ প্রতীক। উত্তরপ্রদেশে অপরাধ দমনে তাঁর কঠোর ‘বুলডোজার নীতি’ দেশজুড়ে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে। বাংলার ভোট-রণক্ষেত্রে হিন্দু ভোটব্যাঙ্ককে সংহত করতে এবং কর্মীদের মনোবল তুঙ্গে নিয়ে যেতে যোগীর এই ভাবমূর্তিকেই হাতিয়ার করছে পদ্ম শিবির।

রাজনৈতিক সমীকরণ: বিশ্লেষকদের মতে, মোদী-শাহের জনসভাগুলোতে ভিড় উপচে পড়লেও, যোগীর সভার আবেদন বরাবরই আলাদা। তাঁর কড়া রাজনৈতিক বার্তা এবং হিন্দুত্বের আবেগ বাংলার ভোট সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের স্পর্শকাতর আসনগুলিতে যোগীর প্রচার বিরোধীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলতে বাধ্য।

এখন দেখার, রবিবাসরীয় প্রচার থেকে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ঠিক কী বার্তা দেন এবং তাঁর এই ‘গেরুয়া ঝড়’ বাংলার ইভিএমে কতটা প্রভাব ফেলে।