আজ বাংলায় মোদি-শাহ-মিঠুনের ‘ত্র্যহস্পর্শ’! বর্ধমান থেকে দিনাজপুর— পদ্ম শিবিরের ঝোড়ো প্রচারে কাঁপবে পশ্চিমবঙ্গ?

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা তুঙ্গে। আজ শনিবার পশ্চিমবঙ্গ সাক্ষী থাকতে চলেছে এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক প্রচারের। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং মেগাস্টার মিঠুন চক্রবর্তী— আজ একই দিনে বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে নামছেন বিজেপির হয়ে ভোট কুড়োতে।

মোদির ‘ত্রিমুখী’ আক্রমণ
আজ প্রধানমন্ত্রী মোদির পাখির চোখ দক্ষিণ থেকে উত্তরবঙ্গ। মোট তিনটি জনসভা করবেন তিনি:

প্রথম সভা: বর্ধমানের কাটোয়ায়।

দ্বিতীয় সভা: মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরে (নবদ্বীপ, জঙ্গিপুর, মুর্শিদাবাদ এবং বহরমপুর কেন্দ্রের প্রার্থীদের সমর্থনে)।

তৃতীয় সভা: দুই দিনাজপুর ও মালদহের বিজেপি প্রার্থীদের সমর্থনে মেগা র‍্যালি।

বাঁকুড়ায় অমিত শাহের জোড়া সভা
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আজ চষে ফেলবেন বাঁকুড়া জেলা। ওন্দার রামসাগর ফিশারি ময়দান এবং ছাতনার ঝাঁটিপাহাড়ি ফুটবল ময়দানে দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর সমর্থনে জনসভা করবেন তিনি। গতকালই তিনি বিজেপির নির্বাচনী ইস্তাহার বা ‘সংকল্পপত্র’ প্রকাশ করেছেন, যার রেশ আজ তাঁর ভাষণেও থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।

মিঠুনের পদযাত্রা ও ইস্তাহারের বড় চমক
আজ বিজেপির অন্যতম বড় আকর্ষণ মহাগুরু মিঠুন চক্রবর্তী। বড়জোড়া বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে গঙ্গাজলঘাটি থেকে অমরকানন পর্যন্ত দীর্ঘ পদযাত্রা করবেন তিনি।

বিজেপির ‘সংকল্প পত্রে’র মূল আকর্ষণসমূহ:

বেকার ভাতা: বেকার যুবকদের জন্য মাসিক ৩০০০ টাকা সহায়তার অঙ্গীকার।

১৫টি প্রতিশ্রুতি: ১০ হাজার বিশিষ্ট ব্যক্তির মতামতের ভিত্তিতে তৈরি এই রোডম্যাপে গুরুত্ব পেয়েছে মহিলাদের নিরাপত্তা ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলা।

অমিত শাহের দাবি: “এই সংকল্পপত্র রবীন্দ্র জয়ন্তীর প্রাক্কালে নতুন ও বিকশিত বাংলা গড়ার পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ।”

ভোটের আগে বিজেপির এই ‘হাই-ভোল্টেজ’ প্রচার এবং জনমোহিনী ইস্তাহার রাজ্যের শাসক শিবিরের ওপর কতটা চাপ বাড়াতে পারে, এখন সেটাই দেখার।