নিজের পাতা ফাঁদেই আটকা ইরান! হরমুজ প্রণালীতে বসানো মাইন খুঁজে পাচ্ছে না আইআরজিসি, বিশ্ববাজারে তেলের দাম কি আবার বাড়বে?

যুদ্ধের দামামা থামিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পাকিস্তান এখন বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের মার্কিন প্রতিনিধি দল এবং ইরানের বিশেষ প্রতিনিধিরা এখন ইসলামাবাদে। কিন্তু এই আলোচনার টেবিলে সবথেকে বড় কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা।
নিজের পাতা মাইনই এখন গলার কাঁটা
মার্কিন গোয়েন্দা ও সামরিক কর্তাদের দাবি, গত মাসে আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলার জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালীতে নির্বিচারে যে ল্যান্ডমাইনগুলো পেতেছিল, এখন তারা নিজেরাই সেগুলো খুঁজে পাচ্ছে না। ইরানি নৌবাহিনী ও আইআরজিসি (IRGC) ছোট ছোট নৌকা ব্যবহার করে এই মরণফাঁদ বিছিয়েছিল। কিন্তু সমুদ্রের স্রোতে এবং সঠিক রেকর্ড না রাখায় সেই মাইনগুলো এখন কোথায় ভেসে বেড়াচ্ছে, তা খোদ ইরান সরকারেরও অজানা।
ট্রাম্পের কড়া শর্ত ও ইরানের প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন—হরমুজ প্রণালী অবিলম্বে নিরাপদ ও সম্পূর্ণরূপে চলাচলের জন্য খুলে দিতে হবে, তবেই দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি সম্ভব হবে। এর জবাবে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, “প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা” মাথায় রেখেই প্রণালীটি খোলা হবে।
মার্কিন কর্তাদের মতে, এই ‘প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা’ আসলে একটি কবুলনামা। ইরান স্বীকার করে নিচ্ছে যে, তাদের পেতে রাখা মাইনগুলো শনাক্ত করার বা দ্রুত অপসারণ করার সক্ষমতা তাদের নেই। এমনকি মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছেও এই বিপুল পরিমাণ মাইন রাতারাতি সরানোর মতো জাদুকরী কোনো উপায় নেই।
কেন স্তব্ধ বিশ্ব অর্থনীতি?
বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহণ করা হয়। ইরান এই জলপথের একটি সংকীর্ণ অংশ টোল আদায়ের বিনিময়ে খোলা রাখলেও, পুরো রুটটি এখন কার্যত মৃত্যুপুরী। ফলে তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলো সেখানে প্রবেশ করতে ভয় পাচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওপর।
ইসলামাবাদে রুদ্ধদ্বার বৈঠক: সমাধান কোন পথে?
বর্তমানে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চললেও পরিস্থিতি অত্যন্ত টালমাটাল। একদিকে আমেরিকা দাবি করছে ইরান শর্ত ভাঙছে, অন্যদিকে ইরানের অভিযোগ—ইজরায়েল লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
মূল সমস্যা যেখানে:
মাইন শনাক্তকরণ: ইরান কিছু ‘সেফ রুট’ বা নিরাপদ পথের মানচিত্র দিলেও আইআরজিসি সতর্ক করেছে যে, মাইনগুলো স্থানচ্যুত হওয়ায় যেকোনো মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
গেরিলা নৌবাহিনী: ইরানের শত শত ছোট নৌযান এখনও মার্কিন জাহাজের জন্য মাথাব্যথার কারণ। যুক্তরাষ্ট্র বেশ কিছু নৌঘাঁটি ধ্বংস করলেও এই ছোট নৌযানগুলোকে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব হয়নি।
ইসলামাবাদের টেবিলে এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো—যান্ত্রিক এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দিয়ে কীভাবে দ্রুত এই জলপথ পরিষ্কার করা যায়। যদি দ্রুত কোনো সমাধানে পৌঁছানো না যায়, তবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কা প্রবল।