৩০০০ টাকা বনাম লক্ষ্মীর ভাণ্ডার! অমিত শাহের মেগা প্রতিশ্রুতির পাল্টা দিয়ে কী বললেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়?

শুক্রবার রাজ্য বিজেপির নির্বাচনী ইশতেহার বা ‘সঙ্কল্পপত্র’ প্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেখানে মহিলাদের মাসিক ৩০০০ টাকা দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি বিজেপি দিয়েছে, তাকে এক হাত নিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সংবাদিক বৈঠক থেকে তাঁর সাফ বার্তা— “৩০০০ টাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাংলার মা-বোনেদের মন বদলানো যাবে না।”

“বাংলাকে চেনে না বিজেপি”

এদিন ডেবরা ও কলকাতায় অমিত শাহের সভার পরেই সাংবাদিক বৈঠকে বসেন অভিষেক। বিজেপির ইশতেহারে মহিলাদের জন্য ৩০০০ টাকার প্রকল্পের ঘোষণার জবাবে তিনি বলেন, “বিজেপি মনে করে বাংলার মহিলাদের টাকা দিয়ে কিনে নেওয়া যাবে। কিন্তু বাংলার মা-বোনেরা আত্মসম্মান বোঝেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের পাশে সারা বছর থাকেন, কেবল নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দেন না।”

১৫ লক্ষ টাকার প্রসঙ্গ তুলে আক্রমণ

অমিত শাহের প্রতিশ্রুতিকে বিঁধে অভিষেক ফের একবার ২০১৪ সালের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি বলেন, “যাঁরা বলেছিলেন অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকা দেবেন, তাঁরা এখন ৩০০০ টাকার গল্প শোনাচ্ছেন। এই সব ‘জুমলা’ বাংলার মানুষ ধরে ফেলেছে।” তাঁর দাবি, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার একটি সফল সামাজিক প্রকল্প, যা বিজেপি সরকার আসার ভয়ে বন্ধ করতে চাইছে।

নারী সুরক্ষা ও সংরক্ষণ নিয়ে খোঁচা

বিজেপির ‘দুর্গাসুরক্ষা স্কোয়াড’ এবং চাকরিতে ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতিকেও কটাক্ষ করেন অভিষেক। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে নারী নিরাপত্তার হাল কী, সেটা আগে অমিত শাহ দেশবাসীকে জানান। হাতরস বা উন্নাওয়ের মতো ঘটনা যে রাজ্যে ঘটে, সেখানে নারী সুরক্ষা নিয়ে কথা বলা মানায় না।”

ভোটের অংক

রাজনৈতিক মহলের মতে, বিজেপির ৩০০০ টাকার প্রতিশ্রুতি তৃণমূলের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। আর সেই আশঙ্কার জায়গা থেকেই অত্যন্ত দ্রুততার সাথে সাংবাদিক বৈঠক করে ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট করে দিতে চান যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া পরিষেবার ওপর মানুষের ভরসা অটুট রয়েছে।

শাহ বনাম অভিষেকের এই বাগযুদ্ধ ২০২৬-এর নির্বাচনী লড়াইকে যে আরও তিক্ত করবে, এদিনের সাংবাদিক বৈঠক তারই প্রমাণ।