“মুসলিমরা কি তৃণমূলের সম্পত্তি?” হুমায়ুন কবীর কাণ্ডে মমতাকে বেনজির আক্রমণ অধীরের, ভোটের আগে নতুন সমীকরণ!

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে নতুন ভূমিকম্প। তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের একটি বিতর্কিত ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ফাঁস হওয়ার পর (যার সত্যতা যাচাই করা হয়নি) এবার সেই ইস্যুতে ময়দানে নামলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। মুসলিম ভোট নিয়ে অধীরের দাবি এবং ভিডিওর প্রেক্ষাপটে তাঁর আক্রমণাত্মক ভঙ্গি নতুন করে উত্তাপ বাড়িয়েছে বাংলার রাজনীতিতে।
কী রয়েছে সেই বিতর্কিত ভিডিওতে?
তৃণমূলের পক্ষ থেকে সম্প্রতি একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আনা হয়েছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে যে হুমায়ুন কবীর বলছেন— “মুসলিমরা খুব ভোলেভালে হয়, তাদের বোকা বানানো সহজ।” শুধু তাই নয়, ভিডিওতে তাঁকে বাবরি মসজিদ নির্মাণের জন্য কোটি কোটি টাকা এবং বিজেপির সাথে আঁতাতের বিষয়েও কথা বলতে শোনা গেছে বলে অভিযোগ তৃণমূলের।
অধীর চৌধুরীর বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া
এই ভিডিও সামনে আসতেই অধীর চৌধুরী তৃণমূল এবং হুমায়ুন কবীর— উভয় পক্ষকেই বিঁধেছেন। অধীরের দাবি:
-
তৃণমূলের চক্রান্ত: অধীর চৌধুরীর মতে, মুসলিম ভোট ভাগ হওয়ার ভয়ে তৃণমূল নিজেরাই এই ভিডিও ছড়িয়ে দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে।
-
ভোট নিয়ে বড় দাবি: অধীর স্পষ্ট বলেন, “মুসলিম সমাজ আর কারও কেনা গোলাম নয়। তাঁদের নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলছে, এবার তাঁরাই যোগ্য জবাব দেবে।” তাঁর দাবি, সংখ্যালঘু ভোটাররা এখন তৃণমূলের থেকে মুখ ফিরিয়ে বিকল্প চিন্তা করছেন।
-
বিজেপি যোগের অভিযোগ: তৃণমূল যেখানে হুমায়ুনকে ‘বিজেপির লোক’ বলছে, সেখানে অধীরের পাল্টা দাবি— “তৃণমূলই তো ঘর থেকে বের করে দিয়ে এখন ড্রামা করছে।”
মুসলিম ভোট ভাগ হওয়ার আশঙ্কা?
হুমায়ুন কবীর ইতিমধ্যে আসাদুদ্দিন ওয়াইসির এআইএমআইএম (AIMIM)-এর সাথে জোট করে নতুন রাজনৈতিক ফ্রন্ট খোলার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এর ফলে মুর্শিদাবাদ ও মালদহের মুসলিম ভোটে বড়সড় ভাঙন ধরতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। অধীর চৌধুরী এই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে কংগ্রেস ও বাম জোটের পালে হাওয়া কাড়তে চাইছেন।
তৃণমূলের পালটা অবস্থান
তৃণমূল কংগ্রেস এই ভিডিওটি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) দ্বারা তদন্তের দাবি তুলেছে। তাদের দাবি, বিজেপির থেকে টাকা নিয়ে সংখ্যালঘু ভোট কাটতেই এই ছক কষেছেন হুমায়ুন।
নির্বাচনের মুখে এই ভিডিও বিতর্ক এবং অধীর চৌধুরীর সক্রিয়তা বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, ২০২৬-এ বাংলার তখত দখলের লড়াইয়ে ‘মুসলিম ভোট’ই হতে চলেছে নির্ণায়ক ফ্যাক্টর।