ভোটে এবার নয়া ফরমান! বোরখা সরিয়ে পরিচয় পরীক্ষা? কমিশনের নির্দেশিকাকে ‘মা-বোনেদের অপমান’ বললেন অভিষেক!

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের মুখে ভোটার শনাক্তকরণ নিয়ে নজিরবিহীন নির্দেশিকা জারি করল নির্বাচন কমিশন। এবার থেকে বুথের প্রবেশপথে বসেই ভোটারদের বৈধতা যাচাই করবেন বিএলও-রা (BLO)। বিশেষ করে পর্দানসীন মহিলা ভোটারদের পরিচয় সুনিশ্চিত করতে মহিলা বিএলও মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর কমিশনের এই সিদ্ধান্ত ঘিরেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক সংঘাত। কমিশনের এই পদক্ষেপকে নারীবিদ্বেষী ও বৈষম্যমূলক বলে আক্রমণ শানিয়েছেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
কমিশনের ১৬ দফা নির্দেশিকা: কী কী বদলাচ্ছে?
নির্বাচন কমিশনের নতুন গাইডলাইনে বিএলও-দের কাঁধে একগুচ্ছ বাড়তি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে:
-
সরাসরি শনাক্তকরণ: বুথের প্রবেশপথে বসে ভোটারদের ছবি ও পরিচয়পত্র মিলিয়ে দেখবেন বিএলও। কোনো অসঙ্গতি থাকলে তৎক্ষণাৎ প্রিসাইডিং অফিসারকে জানাতে হবে।
-
পর্দানসীনদের জন্য বিশেষ নিয়ম: সংখ্যালঘু বা পর্দানসীন মহিলা ভোটারদের পরিচয় যাচাই করতে গেটে থাকবেন মহিলা বিএলও।
-
স্লিপ বিতরণ: ভোটের অন্তত ৫ দিন আগে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ‘ভোটার ইনফরমেশন স্লিপ’ দেওয়া বাধ্যতামূলক। একসঙ্গে অনেক স্লিপ বিলি করলে নেওয়া হবে কড়া ব্যবস্থা।
“ওরা যা খুশি করুক, মানুষ জবাব দেবে” — গর্জে উঠলেন অভিষেক
কমিশনের এই নির্দেশিকার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তোলেন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে। তিনি বলেন, “ওরা সংখ্যালঘু মহিলাদের কাপড় (বোরখা) তুলে পরীক্ষা করতে চাইছে। কমিশনের নিজের বক্তব্যে স্থিরতা নেই। আগে বলেছিলেন মা-বোনেদের সম্মান দিতে হবে, আর এখন বুথের লাইনে তাঁদের হেনস্থা করার ফন্দি আঁটছেন?” অভিষেকের দাবি, মানুষ ভোট দিতেই বুথে যান, সেখানে এমন পরিচয় পরীক্ষার নামে আসলে বিশেষ এক শ্রেণির ভোটারকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
প্রশাসনিক তৎপরতা
কমিশন অবশ্য জানিয়েছে, ভুয়া ভোট রুখতে এবং স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়া সুনিশ্চিত করতেই এই ১৬ দফা নির্দেশিকা। বিএলও-দের ভোটের দিন অন্য কোনো কাজে লাগানো যাবে না এবং তাঁদের ভোটার তালিকার সাথে পরিচিতি কাজে লাগিয়ে নির্ভুল ভোটদান সম্পন্ন করতে হবে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর
বিজেপির পক্ষ থেকে কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হয়েছে। গেরুয়া শিবিরের দাবি, স্বচ্ছ ভোটের জন্য পরিচয় যাচাই জরুরি। অন্যদিকে, তৃণমূল একে গণতান্ত্রিক অধিকার ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে। ভোটের দিন বুথের গেটে এই ‘পরিচয় পরীক্ষা’ কোনো অশান্তির কারণ হয় কি না, এখন সেটাই বড় চিন্তার বিষয়।