লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বনাম ৩০০০ টাকা! ‘বিজেপি মিথ্যে বলছে’, ১৫ লক্ষ টাকার প্রতিশ্রুতি মনে করিয়ে তোপ মমতার

বঙ্গ রাজনীতির পারদ এখন ফুটছে। একদিকে ১০ই এপ্রিল বিজেপির মেগা ‘সংকল্পপত্র’ প্রকাশ, অন্যদিকে সেই সঙ্কল্পকে ‘মিথ্যে’ আখ্যা দিয়ে বারাসাতের জনসভা থেকে পাল্টা হুঙ্কার দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে— মহিলাদের মাসিক ভাতা এবং বেকার যুবকদের প্রতিশ্রুতি।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে মমতার ‘গ্যারান্টি’: বিজেপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে মহিলাদের জন্য মাসে ৩০০০ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর পাল্টা জবাবে বারাসাতের সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের মা-বোনেদের আশ্বস্ত করে বলেন, “লক্ষ্মীর ভাণ্ডার আপনারা সারাজীবন পাবেন।” তিনি মনে করিয়ে দেন, তৃণমূল সরকার যা বলে তা করে দেখায়। ইতিমধ্যেই রাজ্যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা বাড়িয়ে ১০০০-১২০০ থেকে ১৫০০-১৭০০ টাকা পর্যন্ত করা হয়েছে।
১৫ লক্ষ টাকা নিয়ে বিজেপিকে কটাক্ষ: ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে দেওয়া বিজেপির সেই পুরনো প্রতিশ্রুতির কথা টেনে মমতা প্রশ্ন তোলেন, “বিজেপি তো আগে বলেছিল সবার অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকা দেবে, সেই টাকা কি কেউ পেয়েছে? ওরা সব মিথ্যে কথা বলে।” তাঁর দাবি, বিজেপির নতুন প্রতিশ্রুতিগুলো আসলে ভোটের আগে মানুষকে বিভ্রান্ত করার কৌশল মাত্র।
টক্কর যখন ৩০০০ বনাম ১৫০০: এদিন প্রকাশিত বিজেপির সংকল্পপত্রে বড় চমক ছিল— বেকার যুবকদের মাসে ৩০০০ টাকা ভাতা এবং মহিলাদের জন্য মাসিক ৩০০০ টাকা। এর বিপরীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর সরকারের চালু করা ১০০০-১২০০ (বর্তমানে ১৫০০-১৭০০) টাকার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার এবং বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য মাসিক ১৫০০ টাকার ভাতার সফলতার কথা তুলে ধরেন।
নজরে ভোটের ক্যালেন্ডার: ৯ই এপ্রিল মোদীর তিন সভা এবং ১০ই এপ্রিল শাহর সংকল্পপত্র প্রকাশের পর লড়াই এখন সেয়ানে-সেয়ানে। বাংলার ভোটাররা কার ওপর ভরসা করবেন, তা বোঝা যাবে ৪ঠা মে ফলাফল প্রকাশের দিনে।
-
ভোটের তারিখ: ২৩শে এপ্রিল ও ২৯শে এপ্রিল।
-
ফলাফল: ৪ঠা মে, ২০২৬।
প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তব— এই দুইয়ের লড়াইয়ে বাংলার মহিলারা শেষ পর্যন্ত কার হাত ধরেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।