হিমন্তের স্ত্রীকে নিয়ে মন্তব্য, পবনকে আগাম জামিন দিল হাইকোর্ট পবন দাবি করেন

অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার স্ত্রী রিণিকি শর্মার নাগরিকত্ব নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার জেরে আইনি জাঁতাকলে পড়েছিলেন কংগ্রেস নেতা পবন খেরা। তবে শুক্রবার তেলেঙ্গানা হাইকোর্ট থেকে বড়সড় স্বস্তি পেলেন তিনি। আদালত তাঁর আগাম জামিন মঞ্জুর করার পাশাপাশি জানিয়েছে, আগামী ৭ দিন তাঁকে গ্রেফতার করা যাবে না।
ঘটনার সূত্রপাত: গত রবিবার দিল্লিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে পবন খেরা দাবি করেন, হিমন্ত বিশ্বশর্মার স্ত্রী রিণিকি শর্মা ভারত ছাড়াও আরব আমিরশাহি, অ্যান্টিগা এবং বারবুডার নাগরিক। অর্থাৎ তাঁর কাছে তিনটি দেশের পাসপোর্ট রয়েছে। এছাড়াও দুবাইয়ে তাঁর বিপুল সম্পত্তি রয়েছে যা নির্বাচনী হলফনামায় গোপন করা হয়েছে। এরপরই কংগ্রেস নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন রিণিকি।
আদালতের পর্যবেক্ষণ: বিচারপতি সুজানা কালাইসিকম পবনের বিরুদ্ধে থাকা এফআইআর-এর প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট হাইকোর্টে (অসম) আবেদন করার জন্য তাঁকে সাত দিন সময় দিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না বলে আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে। এর আগে অসম পুলিশ দিল্লিতে পবনের বাড়িতে হানা দিলেও তাঁকে পায়নি।
পবন খেরার বিস্ফোরক অভিযোগসমূহ:
-
দ্বৈত নাগরিকত্ব: ভারতে দ্বৈত নাগরিকত্ব বৈধ নয়, তাহলে রিণিকির কাছে তিন দেশের পাসপোর্ট কেন?
-
তীর্যক আক্রমণ: হিমন্ত ভারতীয় মুসলিমদের আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, অথচ তাঁর স্ত্রীর কাছেই মুসলিম প্রধান দেশের পাসপোর্ট রয়েছে বলে দাবি খেরার।
-
দুর্নীতি: রিণিকির দুবাইয়ের সম্পত্তি নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে তথ্য দেননি মুখ্যমন্ত্রী।
পাল্টা আক্রমণ হিমন্তের: মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন এবং পবন খেরাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেছেন। এমনকি রাহুল গান্ধি অসমের এক সভা থেকে হিমন্তকে ‘দেশের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত মুখ্যমন্ত্রী’ বলে তোপ দাগলে লড়াই আরও তীব্র হয়।
পবন খেরা জানিয়েছেন, তিনি কেবল প্রশ্ন তুলেছেন, আর সেই উত্তর না দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে গ্রেফতার করার চেষ্টা করছেন। আপাতত হাইকোর্টের নির্দেশে সাময়িকভাবে স্বস্তিতে কংগ্রেসের এই প্রবীণ নেতা।