“৪ স্ত্রী, ৭ প্রেমিকা আর ৩ শাশুড়ি!”-বরখাস্ত SDPO-র ৮০ কোটির সাম্রাজ্যে এবার ‘থাড়’ সওয়ারি পরিচারিকা

সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানাবে বিহারের কিষাণগঞ্জের বরখাস্ত এসডিপিও (SDPO) গৌতম কুমারের জীবনকাহিনি। আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ বিপুল সম্পত্তির মামলায় এবার সামনে এল এক রহস্যময়ী পরিচারিকার ভূমিকা। তাঁর বিপুল প্রভাব আর বিলাসবহুল জীবনযাত্রা দেখে খোদ তদন্তকারী সংস্থা ‘ইওইউ’ (EOU)-এর আধিকারিকরাই এখন হতবাক।

পরিচারিকার হাতে থাড়-বুলেট, ভাইরাল ছবি!

তদন্তে জানা গিয়েছে, পারো নামের এক গৃহকর্মী গৌতম কুমারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন। অভিযোগ, কুমারের বেআইনি আর্থিক লেনদেনের মূল চাবিকাঠি ছিল এই মহিলার হাতেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় পারোর কিছু ছবি ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তাঁকে দামী থার এসইউভি এবং রয়্যাল এনফিল্ড বুলেট নিয়ে ঘুরতে দেখা যাচ্ছে। এমনকি তাঁর চারপাশে টাকার স্তূপের ছবিও সামনে এসেছে। তদন্ত শুরু হতেই পারো ও তাঁর পরিবার বর্তমানে বেপাত্তা।

৭ প্রেমিকা, ৪ স্ত্রী ও ১৬টি প্লট!

তদন্তে নেমে গৌতম কুমারের ব্যক্তিগত জীবনের যে তথ্য ইওইউ-র হাতে এসেছে, তা রীতিমতো বিস্ফোরক। পূর্ণিয়ায় মোট ১৬টি দামী প্লট কিনেছিলেন তিনি। সেই জমিগুলি তিনি রেজিস্ট্রি করেছিলেন তাঁর:

  • ৭ জন প্রেমিকা

  • ৪ জন স্ত্রী

  • ৩ জন শাশুড়ি এবং

  • ১ জন ছেলের নামে।

এছাড়াও শিলিগুড়িতে একটি চা বাগান, একটি বিলাসবহুল বাংলো এবং একটি দোতলা বাড়ির হদিশ পাওয়া গিয়েছে, যার বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা।

লক্ষ্য ছিল ২০৩০-এর রাজনীতি

তদন্তকারীদের দাবি, গৌতম কুমার কেবল নিজের জন্য নয়, বরং তাঁর এক বিশেষ নারী বন্ধুর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার গড়ার লক্ষ্যে এই টাকা জমাচ্ছিলেন। এমনকি তাঁকে কিষাণগঞ্জ থেকে প্রার্থী করার ছকও কষা হয়েছিল। ২০৩০ সালে অবসর গ্রহণের পর কুমার নিজেও রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।

৮০ কোটির সম্পত্তি ও বরখাস্তের খাড়া

গত ৭ এপ্রিল বিহার সরকার গৌতম কুমারকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে। কিষাণগঞ্জ, পাটনা ও পূর্ণিয়া জুড়ে তল্লাশিতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮০ কোটি টাকার বেআইনি সম্পত্তির হদিশ মিলেছে। প্রশাসনিক মহলের মতে, এটি বিহার পুলিশের ইতিহাসে অন্যতম বড় দুর্নীতি। পুলিশকর্তার এই ‘রোমান্টিক’ ও ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ জীবনের শিকড় আর কতদূর বিস্তৃত, তা জানতেই এখন মরিয়া ইওইউ।