ক্ষমতায় এলেই বদলে যাবে নিয়ম! বাংলায় ‘ইউনিফর্ম সিভিল কোড’ নিয়ে শাহের মেগা ঘোষণা

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের রণকৌশলে এবার সবথেকে বড় বাজিটি খেলল ভারতীয় জনতা পার্টি। শুক্রবার কলকাতায় দলের ‘সংকল্প পত্র’ বা ইস্তাহার প্রকাশ করতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘোষণা করলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে মাত্র ৬ মাসের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে ‘অভিন্ন দেওয়ানি বিধি’ (UCC) কার্যকর করা হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মেরুকরণের রাজনীতিতে এটি গেরুয়া শিবিরের অন্যতম শক্তিশালী ‘মাস্টারস্ট্রোক’।

কী কী বদল আসবে বাঙালির জীবনে?
অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর হলে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমস্ত নাগরিকের জন্য বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, এবং উত্তরাধিকার সংক্রান্ত আইন একই হয়ে যাবে। শাহের ঘোষিত ইস্তাহার অনুযায়ী, রাজ্যে বহুবিবাহ প্রথা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হবে। পাশাপাশি, মুসলিম বিবাহ সহ সমস্ত ধর্মের বিয়ের সরকারি রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করা হবে। মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ এবং ছেলেদের ২১ বছর হিসেবে সুনির্দিষ্ট করা হবে এই আইনের অধীনে।

লিভ-ইন সম্পর্কে কড়া নজরদারি:
ইউসিসি-র অন্যতম বিতর্কিত এবং চর্চিত বিষয় হলো ‘লিভ-ইন’ সম্পর্কের নিয়ম। বিজেপি শাসিত উত্তরাখণ্ডের মডেল অনুসরণ করে বাংলায় প্রস্তাবিত এই আইনে বলা হয়েছে, লিভ-ইন সম্পর্কে থাকতে গেলে পুলিশ বা স্থানীয় প্রশাসনের কাছে নথিবদ্ধ হওয়া বাধ্যতামূলক। এমনকি ২১ বছরের কমবয়সিদের ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের অনুমতি নেওয়াও আবশ্যক করা হতে পারে। এই নিয়ম লঙ্ঘন করলে জেল বা জরিমানার সংস্থান রাখা হয়েছে। তবে আদিবাসী সমাজকে তাদের নিজস্ব প্রথা রক্ষার স্বার্থে এই আইনের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজ্যে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। বিরোধীদের দাবি, লিভ-ইনের মতো বিষয়ে পুলিশি হস্তক্ষেপ ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় আঘাত। অন্যদিকে বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, সামাজিক সুরক্ষা এবং নারীদের অধিকার সুনিশ্চিত করতেই এই অভিন্ন আইনের প্রয়োজন। এখন দেখার, শাহের এই ‘UCC তাস’ বাংলার ইভিএমে কতটা প্রভাব ফেলে।