পেটে স্টেপলারের পিন ফুটিয়েছিলেন রণবীর! ‘ধুরন্ধর ২’-এর সাফল্যের মাঝে অভিনেতার শিউরে ওঠা কাণ্ড ফাঁস

বক্স অফিসে এখন ‘ধুরন্ধর ২’-এর অপ্রতিরোধ্য দাপট। হলিউড এবং চিনা ছবির হেভিওয়েট লড়াইকে টপকে বিশ্বব্যাপী সেরা দশের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে আদিত্য ধরের এই অ্যাকশন থ্রিলার। ছবির এই আকাশছোঁয়া সাফল্যের নেপথ্যে আসল কারিগর একজনই— রণবীর সিং। পর্দায় তাঁর ‘হামজা আলি’ অবতার দেখে যখন দর্শকরা শিহরিত, ঠিক তখনই অভিনেতার চরম আত্মত্যাগের এক বিস্ফোরক গল্প শোনালেন পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপ।

ঘটনাটি প্রায় ১৩ বছর আগের। ২০১৩ সালে মুক্তি পেয়েছিল রণবীর অভিনীত ‘লুটেরা’। সেই ছবির অন্যতম প্রযোজক ছিলেন অনুরাগ। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, কেরিয়ারের শুরুর দিকেই রণবীর প্রমাণ করেছিলেন তিনি চরিত্রের জন্য ঠিক কতটা পাগল হতে পারেন। ছবির ক্লাইম্যাক্সে গুলি লাগার একটি দৃশ্য ছিল। সেই অসহ্য ব্যথার অনুভূতি পর্দায় বাস্তবসম্মত করে তুলতে রণবীর কাউকে না জানিয়ে নিজের পেটে স্টেপলারের পিন গেঁথে নিয়েছিলেন! শট চলাকালীন যন্ত্রণায় ছটফট করলেও ক্যামেরা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে কিচ্ছু বুঝতে দেননি তিনি। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়ে উঠেছিল যে শট শেষ হওয়ার পর তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়।

অনুরাগ কাশ্যপের মতে, রণবীরের এই প্যাশন আজও অটুট। ‘ধুরন্ধর ২’-এর সেটেও রণবীর এবং অর্জুন রামপাল অ্যাকশন দৃশ্য নিখুঁত করতে গিয়ে একে অপরকে সত্যিকারের আঘাত করেছেন বলে শোনা গিয়েছে। অনুরাগের কথায়, “ওঁরা চরিত্রের জন্য জান লড়িয়ে দিয়েছে বলেই ছবিটা আজ বিশ্বজুড়ে সফল।” খিলজি থেকে হামজা আলি— রণবীর বারবার বুঝিয়ে দিচ্ছেন যে, তাঁর সাফল্য কেবল ভাগ্যের জোরে নয়, বরং রক্ত-জল করা কঠোর পরিশ্রমের ফসল। বিশ্বব্যাপী আয়ের নিরিখে ছবি দশম স্থানে থাকলেও, রণবীরের লড়াই বলিউড ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে রইল।