সপ্তম বেতন কমিশন থেকে বেকার ভাতা: বাংলার জন্য বিজেপির মেগা ‘সঙ্কল্পপত্র’ প্রকাশ করলেন অমিত শাহ!

বাংলায় বিধানসভা ভোটের দামামা বাজতেই নিজেদের তুরুপের তাস সাজিয়ে ফেলল গেরুয়া শিবির। শহর কলকাতায় দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে ধুমধাম করে প্রকাশ করা হল বিজেপির নির্বাচনী ইস্তাহার বা ‘সঙ্কল্পপত্র’। এই নথিকে কেবল একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি নয়, বরং ‘সোনার বাংলা’ গড়ার ব্লু-প্রিন্ট হিসেবেই দাবি করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর ভাষণে উঠে এল অনুপ্রবেশ রোখা থেকে শুরু করে বেকারদের ভবিষ্যৎ— সবকিছুরই বিস্তারিত রোডম্যাপ।
অমিত শাহ স্পষ্ট জানান, তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিজেপি বাংলায় উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে চায়। রাজ্যের বর্তমান ভয় ও দুর্নীতির পরিবেশ থেকে সাধারণ মানুষকে মুক্তি দেওয়াই তাঁদের লক্ষ্য। অনুপ্রবেশ রুখতে তিনি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা ঘোষণা করে বলেন, ‘ডিটেক্ট, ডিলিট এবং ডিপোর্ট’—এই তিন ধাপে অনুপ্রবেশকারীদের রাজ্য ছাড়া করা হবে। একইসঙ্গে সীমান্ত সুরক্ষা এবং গরু পাচার বন্ধে কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস দেন তিনি। সরকারি কর্মীদের মুখে হাসি ফুটিয়ে শাহ প্রতিশ্রুতি দেন, ক্ষমতায় এলে মাত্র ৪৫ দিনের মধ্যে সপ্তম বেতন কমিশন চালু করা হবে এবং বকেয়া ডিএ নিশ্চিত করা হবে।
বেকার যুবক ও মহিলাদের জন্য একগুচ্ছ চমক রয়েছে এই সঙ্কল্পপত্রে। বেকারদের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা ভাতা এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় স্থায়ী চাকরির গ্যারান্টি দিয়েছে বিজেপি। অন্যদিকে, মহিলাদের জন্য সরকারি চাকরিতে ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ, প্রতিটি পুলিশ জেলায় মহিলা ডেস্ক এবং বাসে বিনামূল্যে যাতায়াতের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কৃষকদের জন্য প্রধানমন্ত্রী কিসান প্রকল্পের টাকা বাড়িয়ে বছরে ৯ হাজার টাকা করার পাশাপাশি ধানের নির্দিষ্ট সহায়ক মূল্য ঠিক করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি। স্বাস্থ্যক্ষেত্রে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প কার্যকর করা এবং উত্তরবঙ্গে নতুন ক্যানসার হাসপাতাল তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে এই তালিকায়। শাহ স্পষ্ট করে দেন, বিজেপি জিতলে বাংলার ভূমিপুত্রই হবেন মুখ্যমন্ত্রী। আর মাছ-ডিম খাওয়া নিয়ে অহেতুক জল্পনা উড়িয়ে তিনি জানান, গরিবদের কোনো প্রকল্প বা খাদ্যাভ্যাস বন্ধ করা হবে না।