ঘড়িতে মেপে ৫টা ৩৭; প্রশান্ত মহাসাগরে ল্যান্ড করবে নাসার মহাকাশযান, কেন আজই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দিন?

মহাকাশে দীর্ঘ সফর শেষ করে আজ অর্থাৎ শুক্রবার ঘরে ফিরছে নাসার (NASA) Artemis II মিশনের চার মহাকাশচারী। ফ্লোরিডার স্থানীয় সময় রাত ৮টা ০৭ মিনিটে প্রশান্ত মহাসাগরে আছড়ে পড়ার কথা ওরিয়ন স্পেসক্রাফ্টটির। তবে ভারতীয় সময় অনুযায়ী, শনিবার ১১ এপ্রিল ভোর ৫টা ৩৭ মিনিটে এই রোমাঞ্চকর অবতরণ চাক্ষুষ করা যাবে। মহাকাশ বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে, পুরো অভিযানের মধ্যে আজকের এই ‘রি-এন্ট্রি’ বা বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময়টিই সবথেকে বিপজ্জনক।
চাঁদের মাটি স্পর্শ না করলেও, চাঁদের খুব কাছ থেকে ঘুরে ঐতিহাসিক তথ্য সংগ্রহ করে ফিরছে এই চার মহাকাশচারী। কিন্তু ফেরার পথ মোটেই মসৃণ নয়। যখন ওরিয়ন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করবে, তখন তার গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় প্রায় ৪০ হাজার কিলোমিটার। এই প্রবল গতির কারণে বায়ুমণ্ডলের সঙ্গে ঘর্ষণে প্রায় ৫০০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট (২৭৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) তাপমাত্রা উৎপন্ন হবে। এই উত্তাপ সহ্য করাই এখন সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ। ওই সময় মহাকাশযানের সঙ্গে পৃথিবীর সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে এবং মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রবল চাপ অনুভূত হবে মহাকাশচারীদের শরীরে।
২০২২ সালের Artemis I মিশনের সময় ওরিয়নের ‘হিট শিল্ড’ বা তাপ সুরক্ষা কবচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেবার হিট শিল্ডের বাইরের অংশ ‘Avcoat’ প্রায় ১০০টি টুকরোয় ভেঙে গিয়েছিল। এবার সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েছে নাসা। Artemis II-তে যেহেতু চারজন রক্ত-মাংসের মানুষ রয়েছেন, তাই নাসা এবার ‘স্টিপার এন্ট্রি’ পদ্ধতি গ্রহণ করেছে। এই প্রক্রিয়ায় মহাকাশযানটি বায়ুমণ্ডলের অতিরিক্ত উত্তপ্ত স্তরে খুব কম সময় থাকবে। নাসার বিজ্ঞানীরা প্রতিনিয়ত থার্মাল প্রোটেকশন সিস্টেমের ওপর নজর রাখছেন যাতে নিরাপদে সমুদ্রের বুকে ফিরে আসতে পারেন মহাকাশচারীরা।