‘গণতন্ত্র যেন চৈত্র সেলের মতো বিক্রি হচ্ছে’! হাড়োয়ার সভা থেকে কেন্দ্রকে তীব্র আক্রমণ মমতার

আসন্ন ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বেজে গিয়েছে বাংলায়। এই আবহেই বৃহস্পতিবার উত্তর ২৪ পরগনার হাড়োয়া সার্কাস ময়দানে এক বিশাল জনসভা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মিনাখাঁ ও হাড়োয়া কেন্দ্রের দুই প্রার্থী ঊষারানি মণ্ডল এবং মুফতি আবদুল মাতিনের সমর্থনে আয়োজিত এই সভায় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া এবং কাদা-জল উপেক্ষা করেই উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। এই মঞ্চ থেকেই ভোটার তালিকা সংশোধন, সুন্দরবনের উন্নয়ন এবং জাতীয় রাজনীতি নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন তিনি।
সভা থেকে কেন্দ্রীয় সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ষড়যন্ত্র করে ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৯০ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি। সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে ইতিমধ্যেই ৩২ লক্ষ মানুষের নাম ফিরিয়ে আনতে পেরেছি, বাকিদের জন্যও কাজ চলছে।” গণতন্ত্রের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি মন্তব্য করেন, “আজকের দিনে গণতন্ত্রকে যেন চৈত্র সেলের মতো বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে।” ভাষা ও সংস্কৃতির প্রশ্নেও এদিন সরব হন মমতা। বাংলার মনীষীদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ভোটের আগে টাকা দিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা হবে, কিন্তু সেই প্রলোভনে পা দেওয়া চলবে না।
এদিন সুন্দরবনবাসীর জন্য বড় প্রতিশ্রুতি দেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি ঘোষণা করেন, এই অঞ্চলের প্রশাসনিক জটিলতা দূর করতে সুন্দরবনকে আলাদা জেলা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বাঘ-কুমিরের সাথে লড়াই করা মানুষদের জীবিকা রক্ষায় ‘স্বর্ণ’ ধানের মতো নতুন কৃষি উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি, বিশেষ করে মহিলাদের আত্মরক্ষার পাঠ দিয়ে তিনি বলেন, যদি কেউ ভোটদানে বাধা দেয়, তবে ‘ঝাড়ু’ নিয়ে পথ পরিষ্কার করে বুথে পৌঁছাতে হবে। ইভিএম মেশিন নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি সাফ জানান, গোলমাল থাকলে সেই মেশিনে ভোট দেওয়া যাবে না।