এআই না কি বাস্তব? এক ঘরে ২৫০ কুকুরের গাদাগাদি! আঁতকে ওঠা ছবির রহস্য ফাঁস করল RSPCA

একটি ঘরের মধ্যে গাদাগাদি করে রাখা শয়ে শয়ে কুকুর—এমনই এক শিউরে ওঠা ছবি নেটদুনিয়ায় ভাইরাল হতেই শুরু হয়েছিল বিতর্ক। ছবির অস্বাভাবিকতা দেখে নেটিজেনদের একাংশ দাবি করেছিলেন এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI দিয়ে তৈরি। কিন্তু ব্রিটেনের খ্যাতনামা প্রাণী কল্যাণ সংস্থা RSPCA (রয়্যাল সোসাইটি ফর দ্য প্রিভেনশন অফ ক্রুয়েলটি টু অ্যানিম্যালস) সপাটে জানিয়ে দিল, ছবিটি বিন্দুমাত্র মিথ্যে নয়, বরং এটি এক চরম নিষ্ঠুর বাস্তবের প্রতিচ্ছবি।

ব্রিটেনের এই সংস্থাটি সম্প্রতি একটি বাড়ি থেকে প্রায় ২৫০টি পুডল-ক্রস জাতের কুকুর উদ্ধার করেছে। সংস্থার সুপারিনটেনডেন্ট জো হার্স্ট জানিয়েছেন, দৃশ্যটি এতটাই মর্মান্তিক যে সাধারণ মানুষের পক্ষে তা বিশ্বাস করা কঠিন। পারিবারিক সমস্যার জেরে এই বিপুল সংখ্যক কুকুরের প্রজনন ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল। উদ্ধার করা ২৫০টি কুকুরের মধ্যে ৮৭টি বর্তমানে RSPCA-এর তত্ত্বাবধানে রয়েছে এবং বাকিদের ‘ডগস ট্রাস্ট’-এ পাঠানো হয়েছে।

পরিসংখ্যান বলছে, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে এই ধরনের ঘটনা ২০২১ সালের পর থেকে প্রায় ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত এক বছরেই এমন ৪,২০০টি ঘটনার সাক্ষী থেকেছে সংস্থাটি, যেখানে একটি মাত্র ঠিকানায় ১০টির বেশি প্রাণী নরককঙ্কাল অবস্থায় দিন কাটাচ্ছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি, আর্থিক সংকট এবং অতিরিক্ত প্রাণীর প্রজনন রুখতে না পারার কারণেই পরিস্থিতি এমন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।

উদ্ধার হওয়া এই কুকুরগুলোর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। অনেকেরই দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন প্রয়োজন। তবে আইনি জটিলতার কারণে অনেক প্রাণীকে এখনই দত্তক দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। RSPCA-এর আশ্রয়কেন্দ্রগুলো এখন কানায় কানায় পূর্ণ। এই পরিস্থিতিতে পশুপ্রেমী মানুষের কাছে সংস্থাটির কাতর আবেদন, এই অবলা প্রাণীদের নতুন জীবন দিতে এগিয়ে আসুন এবং দত্তক নেওয়ার কথা ভাবুন।