বুলেট প্রেমীদের জন্য সুখবর! কালই আসছে রয়্যাল এনফিল্ডের প্রথম ইলেকট্রিক বাইক ‘ফ্লাইং ফ্লি’

রয়্যাল এনফিল্ড মানেই আভিজাত্য আর গর্জনের মিশেল। তবে এবার শব্দহীন বিপ্লব ঘটাতে প্রস্তুত ভারতের এই আইকনিক বাইক প্রস্তুতকারক সংস্থা। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রথমবারের মতো ইলেকট্রিক সেগমেন্টে পা রাখছে তারা। আগামীকাল, ১০ এপ্রিল ২০২৬-এ ভারতের বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে তাদের প্রথম ইলেকট্রিক বাইক ‘ফ্লাইং ফ্লি সি৬’ (Flying Flea C6)। রেট্রো লুক এবং আধুনিক প্রযুক্তির এক অনন্য মেলবন্ধন এই বাইকটি বাইকপ্রেমীদের মধ্যে ইতিমধ্যেই ব্যাপক উদ্দীপনা তৈরি করেছে।
পারফরম্যান্স ও গতি:
রয়্যাল এনফিল্ডের এই ইলেকট্রিক বাইকটি শুধুমাত্র পরিবেশ-বান্ধবই নয়, বরং পারফরম্যান্সের দিক থেকেও অত্যন্ত শক্তিশালী। রিপোর্ট অনুযায়ী, একবার ফুল চার্জ দিলে এটি প্রায় ১৫৪ কিলোমিটার পর্যন্ত পথ পাড়ি দিতে পারবে। গতিপ্রেমীদের হতাশ করবে না এই বাইক, কারণ মাত্র ৩.৭ সেকেন্ডেই এটি ০ থেকে ৬০ কিমি প্রতি ঘণ্টা গতি তুলতে সক্ষম। শহরের ব্যস্ত রাস্তায় দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য এটি অন্যতম সেরা বিকল্প হতে চলেছে।
অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও ফিচার:
পুরানো দিনের ক্লাসিক ডিজাইনের আদলে তৈরি হলেও, এর অন্দরে রয়েছে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া। বাইকটিতে থাকছে:
স্মার্ট কানেক্টিভিটি: টিএফটি ডিসপ্লের সঙ্গে স্মার্টফোন কানেক্টিভিটি, নেভিগেশন এবং কল-মেসেজ অ্যালার্ট।
অ্যাডভান্সড সিস্টেম: কীলেস স্টার্ট এবং উন্নত ডিজিটাল কন্ট্রোল প্যানেল।
রাইডিং মোড: বিভিন্ন রাস্তার অবস্থা অনুযায়ী এতে চারটি ভিন্ন রাইডিং মোড দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে একটি সম্পূর্ণ কাস্টমাইজযোগ্য।
মজবুত গড়ন: হালকা অথচ শক্তিশালী অ্যালুমিনিয়াম ফ্রেমের ওপর ভিত্তি করে এটি তৈরি করা হয়েছে। বাইকটির গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স ২০৭ মিমি এবং সিটের উচ্চতা ৮২৩ মিমি।
দাম ও প্রতিযোগিতা:
সূত্রের খবর, ভারতীয় বাজারে রয়্যাল এনফিল্ড ফ্লাইং ফ্লি সি৬-এর দাম ২.৫ লক্ষ থেকে ৪.৫ লক্ষ টাকার মধ্যে হতে পারে। প্রিমিয়াম ইলেকট্রিক বাইকের বাজারে এই মডেলটি ওলা ইলেকট্রিক বা আল্ট্রাভায়োলেট-এর মতো ব্র্যান্ডগুলোকে কড়া টক্কর দেবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ১০ এপ্রিল আনুষ্ঠানিক লঞ্চের পরেই বুকিং ও ডেলিভারি সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করবে সংস্থা।