বাংলায় মোদী-শাহের মেগা এন্ট্রি! ৩ দিনে ৬ সভা ও রোড শো, কাঁপবে তৃণমূলের গড়?

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার মসনদ দখলে মরিয়া গেরুয়া শিবির। ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি, আর সেই পারদ আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিতে এবার একসঙ্গে ময়দানে নামছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বঙ্গ বিজেপির পালে হাওয়া দিতে আগামী তিন দিন রাজ্যে ম্যারাথন কর্মসূচি পালন করবেন এই দুই শীর্ষ নেতা। প্রধানমন্ত্রীর জনসভা থেকে শুরু করে অমিত শাহের রোড শো—সব মিলিয়ে এক হাই-ভোল্টেজ রাজনৈতিক সপ্তাহের সাক্ষী হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ।

মোদীর ঝোড়ো সফর:
বৃহস্পতিবারই রাজ্যে পা রাখছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রচারের প্রথম দিনেই তিনি দক্ষিণ ও শিল্পাঞ্চলের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা কভার করবেন। তাঁর প্রথম গন্তব্য পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়া, যা বর্তমানে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এরপর তিনি পা রাখবেন পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলে এবং দিনের শেষ সভাটি করবেন বীরভূমের সিউড়িতে। মোদী তাঁর ‘বিজয় সংকল্প সভা’ থেকে দুর্নীতির ইস্যু তুলে তৃণমূলকে কতটা কোণঠাস্য করেন, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

শাহের সংকল্প ও রোড শো:
মোদীর সফর শেষ হতেই বৃহস্পতিবার রাতে কলকাতায় পা রাখবেন চাণক্য অমিত শাহ। শুক্রবার তাঁর প্রধান নজর থাকবে পশ্চিম মেদিনীপুরের দিকে। সেখানে ডেবরায় জনসভার পাশাপাশি খড়্গপুরে একটি মেগা রোড শো করার কথা রয়েছে তাঁর। সূত্রের খবর, শুক্রবারই বিজেপির নির্বাচনী ‘সংকল্পপত্র’ বা ইশতেহার প্রকাশ করতে পারেন শাহ। এরপর শনিবার বাঁকুড়ার ছাতনা এবং পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডিতে সভা করে আদিবাসী ও জঙ্গলমহল বেল্টের ভোটব্যাঙ্ক নিশ্চিত করাই তাঁর লক্ষ্য।

এর আগে কোচবিহারের সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন মোদী। অন্যদিকে, শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন পর্বে হাজির হয়ে শাহ সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, ভোটের সময় ১৫ দিন তিনি বাংলায় সময় দেবেন। অনুপ্রবেশ এবং জনবিন্যাসের মতো স্পর্শকাতর ইস্যুগুলিকেও তিনি হাতিয়ার করেছেন। এখন দেখার, মোদী-শাহ জুটির এই সাঁড়াশি আক্রমণ বিধানসভা ভোটের ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলে।