কালাষ্টমী ২০২৬: আজই সেই মাহেন্দ্রক্ষণ! কাল ভৈরবের কৃপায় কাটবে শনির দশা ও অকাল মৃত্যুর ভয়

সনাতন ধর্মে ভগবান শিবের রৌদ্র রূপ ‘কাল ভৈরব’ হলেন সময়ের দেবতা এবং অন্যায়ের বিনাশকারী। প্রতি মাসেই কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে কালাষ্টমী পালিত হলেও, বৈশাখ মাসের এই তিথিটির মাহাত্ম্য অপরিসীম। ২০২৬ সালের ৯ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার পালিত হচ্ছে এই পবিত্র ব্রত। জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, যারা দীর্ঘস্থায়ী রোগ, শত্রুভয় বা গ্রহদোষে জর্জরিত, তাঁদের জন্য এই দিনটি আশীর্বাদ স্বরূপ।
শুভক্ষণ ও পুজোর সময়:
পঞ্জিকা অনুসারে, ২০২৬ সালের বৈশাখী কালাষ্টমীর তিথি শুরু হয়েছে ৮ এপ্রিল রাতে এবং এটি বজায় থাকবে ৯ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত। যেহেতু কাল ভৈরবের আরাধনা মূলত ‘নিশীথ কালে’ বা মধ্যরাতে করা হয়, তাই ৯ এপ্রিল তারিখটিই ব্রত পালনের জন্য শ্রেষ্ঠ। শিবপুরাণ মতে, ব্রহ্মার দর্প চূর্ণ করতে শিবের ক্রোধ থেকে উৎপন্ন হয়েছিলেন এই ভয়ঙ্কর অথচ দয়ালু দেবতা।
কীভাবে করবেন পুজো?
১. সংকল্প ও স্নান: ভোরে স্নান সেরে পরিষ্কার পরিহিত হয়ে মহাদেবের চরণে ব্রতের সংকল্প করুন।
২. বিশেষ অর্ঘ্য: কাল ভৈরবকে কালো তিল, নীল ফুল এবং বিল্বপত্র অর্পণ করা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়।
৩. কুকুর সেবা: কাল ভৈরবের বাহন হলো কুকুর। তাই এদিন কালো কুকুরকে মিষ্টি রুটি বা খাবার খাওয়ালে তুষ্ট হন কাল ভৈরব। এতে রাহু ও শনির কুদৃষ্টি থেকে মুক্তি মেলে।
৪. মন্ত্র জপ: মধ্যরাতে ‘ওঁ কালভৈরবায় নমঃ’ মন্ত্রটি জপ করলে জীবনের সমস্ত নেতিবাচক শক্তি দূর হয়।
পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, নিষ্ঠাভরে এই ব্রত পালন করলে ভক্তরা অকাল মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পান। বৈশাখী কালাষ্টমী আসলে নিজের অন্তরের অহংকারকে বিসর্জন দিয়ে আধ্যাত্মিক শক্তি অর্জনের দিন। আজকের এই বিশেষ দিনে নিয়ম মেনে পুজো করলে মহাদেবের আশীর্বাদে দূর হবে জীবনের যাবতীয় অন্ধকার।