“BJP ক্ষমতায় এলে মাছ বন্ধ?”-মমতার দাবিতে পাল্টা কী বললেন PM মোদী?

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের লড়াই এবার রান্নাঘর থেকে সোজা রাজনীতির ময়দানে। বাঙালির চিরকালের আবেগ ‘মাছ’ নিয়েই এখন সম্মুখ সমরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার হলদিয়ার হাইভোল্টেজ জনসভা থেকে মাছের উৎপাদন ও জোগান নিয়ে তৃণমূল সরকারকে নজিরবিহীন আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী।

“১৫ বছরেও মাছ খাওয়াতে পারেনি তৃণমূল”

হলদিয়ার মঞ্চ থেকে মোদী সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, “বাংলার মাছের চাহিদা জগৎবিখ্যাত, কিন্তু ১৫ বছরের শাসনেও তৃণমূল সরকার আপনাদের মাছ খাওয়াতে পারল না। আজও বাইরে থেকে মাছ আমদানি করতে হচ্ছে কেন?” তাঁর দাবি, গত ১১ বছরে গোটা দেশে মৎস্য উৎপাদন দ্বিগুণ হলেও বাংলা পিছিয়ে পড়েছে শুধু শাসকদলের দুর্নীতির কারণে।

প্রধানমন্ত্রী উদাহরণ টেনে বলেন, “একসময় বিহার ও অসম বাইরে থেকে মাছ আনত, আজ তারা রপ্তানি করছে। কিন্তু বাংলার এই দশার জন্য তৃণমূলের ‘পাপ’ দায়ী।”

মমতার ‘খাদ্যাভ্যাস’ কার্ড বনাম মোদীর ‘উৎপাদন’ ফ্যাক্ট

নির্বাচনী প্রচারে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার দাবি করছেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলায় মাছ-মাংস খাওয়া বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। পুরুলিয়ার সভা থেকে তিনি একে বাঙালির ‘সাংস্কৃতিক পরিচয়ের ওপর আক্রমণ’ হিসেবে তুলে ধরেন। এমনকি তৃণমূলের অ্যানিমেশন ভিডিওতেও দেখানো হচ্ছে যে বিজেপি এলে মাছের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে।

হলদিয়ায় দাঁড়িয়ে মোদী আজ সেই ‘ন্যারেটিভ’ ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করলেন। তিনি বোঝাতে চাইলেন:

  • বিজেপির লক্ষ্য: খাদ্যাভ্যাসে হস্তক্ষেপ নয়, বরং বাংলাকে মাছ উৎপাদনে আত্মনির্ভর করা।

  • বিজেপি শাসিত রাজ্য: অসম ও বিহারের উদাহরণ দিয়ে দেখালেন কীভাবে বিজেপি আমল বদলে দিয়েছে মৎস্যজীবীদের ভাগ্য।

মাছ যখন ভোটের ট্রাম্প কার্ড

বাংলার রাজনীতিতে মাছ শুধু খাবার নয়, এক বিশাল আবেগ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লড়াইটা এখন দুই মেরুতে:

তৃণমূলের কৌশল: বাঙালির আবেগ ও খাদ্যাভ্যাসে হস্তক্ষেপের ভয় দেখিয়ে ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখা। বিজেপির কৌশল: অর্থনৈতিক ব্যর্থতা ও উৎপাদনের খতিয়ান তুলে ধরে তৃণমূলের উন্নয়নের দাবিকে খণ্ডন করা।

বিজেপি যে এই ইস্যুকে হালকাভাবে নিচ্ছে না, তা বোঝা গিয়েছে বিধাননগরের বিজেপি প্রার্থীর ৫ কেজির মাছ হাতে নিয়ে প্রচারেই। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও স্পষ্ট করেছেন যে, মাছ-মাংস নিষিদ্ধ করার কোনও প্রশ্নই ওঠে না।

উপসংহার: ২০২৬-এর নির্বাচনে ‘মাছ-ভাতের’ লড়াই যে শেষ পর্যন্ত কার পাতে ভোট দেবে, সেটাই এখন দেখার। একদিকে মমতার ‘বাঙালি সংস্কৃতি’ রক্ষার লড়াই, অন্যদিকে মোদীর ‘উৎপাদন ও উন্নয়নের’ গ্যারান্টি— হলদিয়ার সভা থেকে এই বিতর্কের পারদ যে কয়েক গুণ চড়ে গেল, তা বলাই বাহুল্য।