“বাংলার মাছ বাঙালির পাতে পৌঁছাবে কম দামে”,-TMC-কে হটিয়ে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের ডাক মোদীর!

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে আবারও ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের দাওয়াই দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৃহস্পতিবার তমলুকের জনসভা থেকে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, বাংলাকে উন্নয়নের শিখরে নিয়ে যেতে এবং মৎস্য উৎপাদনে স্বনির্ভর করতে রাজ্যে বিজেপি সরকার আসা এখন সময়ের দাবি।

কী এই ‘ডাবল ইঞ্জিন’ দাওয়াই?

প্রধানমন্ত্রী এদিন তাঁর ভাষণে জোর দিয়ে বলেন, কেন্দ্রে বিজেপি এবং রাজ্যে বিজেপি— এই দুই শক্তির মেলবন্ধনই পারে বাংলার স্থবির হয়ে যাওয়া উন্নয়নকে গতি দিতে। তাঁর মতে, দিল্লির প্রকল্পগুলো কলকাতায় এসে থমকে যাচ্ছে কারণ বর্তমান রাজ্য সরকার তাতে সহযোগিতা করছে না। তাই ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার থাকলে সেই বাধা দূর হবে।

মাছ চাষে বিপ্লব আনার প্রতিশ্রুতি

বাংলার অন্যতম আবেগ ‘মাছ’ নিয়ে এদিন তৃণমূলকে চেপে ধরেন মোদী। তিনি বলেন:

  • স্বনির্ভর বাংলা: “ডাবল ইঞ্জিন সরকার এলে বাংলাকে মাছ চাষে দেশের মধ্যে এক নম্বরে নিয়ে যাওয়া হবে।”

  • আমদানি বন্ধ: অন্য রাজ্য থেকে মাছ আনার নির্ভরতা কমিয়ে বাংলার পুকুর ও নদী থেকেই পর্যাপ্ত মাছ উৎপাদনের পরিকাঠামো গড়া হবে।

  • মৎস্যজীবীদের ক্রেডিট কার্ড: কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা সরাসরি মৎস্যজীবীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে যাতে আধুনিক মৎস্য চাষের মাধ্যমে তাঁদের আয় বাড়ে।

কেন বারবার ‘ডাবল ইঞ্জিন’?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী বোঝাতে চেয়েছেন যে কেন্দ্রের দেওয়া টাকা যদি রাজ্য সরকার সঠিক খাতে খরচ করে, তবেই বাংলার সাধারণ মানুষের পকেটে টাকা আসবে। বিশেষ করে কৃষি ও মৎস্য চাষে প্রযুক্তির ছোঁয়া আনতে হলে ডাবল ইঞ্জিন সরকারের কোনও বিকল্প নেই বলেই এদিন দাবি করেন তিনি।

“ডাবল ইঞ্জিন সরকার বাংলায় খুব দরকার। এই সরকারই বাংলাকে এগিয়ে দেবে, মৎস্যজীবীদের সম্মান দেবে।” — নরেন্দ্র মোদী, প্রধানমন্ত্রী।

তৃণমূলের ১৫ বছরের জমানাকে ‘ব্যর্থ’ আখ্যা দিয়ে মোদী আজ তমলুকের মঞ্চ থেকে পরিবর্তনের ডাক দিলেন। এখন দেখার, প্রধানমন্ত্রীর এই ‘ডাবল ইঞ্জিন’ থিওরি বাংলার সাধারণ ভোটারের মন কতটা জয় করতে পারে।