পারলৌকিক ক্রিয়ায় মাথা মুণ্ডন কেন? জানুন হিন্দু শাস্ত্রে চুল বিসর্জনের আধ্যাত্মিক ও বৈজ্ঞানিক মাহাত্ম্য

হিন্দু ধর্মে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিটি সংস্কারের একটি গভীর অর্থ রয়েছে। প্রিয়জনের প্রয়াণের পর শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের আগে মস্তক মুণ্ডন বা ন্যাড়া হওয়া একটি অতি প্রাচীন এবং শাস্ত্ৰীয় রীতি। আপাতদৃষ্টিতে এটি কেবল একটি প্রথা মনে হলেও, এর পেছনে আধ্যাত্মিক, মনস্তাত্ত্বিক এবং বৈজ্ঞানিক—তিনটি কারণই বিদ্যমান। মূলত শোক প্রকাশ, অহংকার বিসর্জন এবং নিজেকে শুদ্ধ করার লক্ষ্যেই এই নিয়ম পালন করা হয়।

কেন এই নিয়ম?

অহংকার ও আসক্তি ত্যাগ: চুল মানুষের বাহ্যিক সৌন্দর্য ও অহংকারের প্রতীক। মাথা মুণ্ডন করার মাধ্যমে শোকসন্তপ্ত ব্যক্তি নিজের অহংকার ও পার্থিব সৌন্দর্যের মায়া ত্যাগ করে ঈশ্বরের কাছে নিজেকে নম্রভাবে সমর্পণ করেন।

শুদ্ধিকরণ ও অশৌচ মুক্তি: গুরুড় পুরাণ মতে, পরিবারের কারো মৃত্যু হলে সদস্যদের মধ্যে ‘অশৌচ’ বা অশুদ্ধি দেখা দেয়। চুল নেতিবাচক শক্তি আকর্ষণ করে বলে মনে করা হয়, তাই মুণ্ডন করে নেতিবাচকতা দূর করে আত্মিক ও শারীরিক শুদ্ধি ঘটানো হয়।

জাগতিক মায়া ছিন্ন করা: বিশ্বাস করা হয় যে, মৃত্যুর পর আত্মা মায়ার টানে পরিবারের আশেপাশে থাকে। মুণ্ডন করার প্রক্রিয়াটি মৃত আত্মার সাথে জীবিতদের পার্থিব সম্পর্ক ছিন্ন করার একটি প্রতীকী ধাপ, যাতে আত্মা শান্তিতে পরলোকে পাড়ি দিতে পারে।

বৈজ্ঞানিক প্রেক্ষাপট: প্রাচীনকালে শ্মশানে মৃতদেহ দাহ করার সময় নানাবিধ জীবাণু বা সংক্রমণের ঝুঁকি থাকতো। মাথা ন্যাড়া করা এবং স্নান করা ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে ও রোগব্যাধি রুখতে সাহায্য করে।

সাধারণত পিতা-মাতার মৃত্যুর পর পুত্ররা এই ব্রত পালন করেন। এটি মৃত আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের একটি পরম মাধ্যম, যা পরিবারের সদস্যদের মানসিক শান্তি ও পারলৌকিক পবিত্রতা প্রদান করে।