ইরান-আমেরিকা যুদ্ধবিরতি কি তবে নিছক নাটক? এক রাতেই ফের রণক্ষেত্র মধ্যপ্রাচ্য!

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে শান্তির যে ক্ষীণ রেখা দেখা গিয়েছিল, তা মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মিলিয়ে গেল। বুধবার ভোরে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যে ঐতিহাসিক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছিল, বুধবার মধ্যরাত পেরোতেই তা কার্যত ভেস্তে যাওয়ার মুখে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া এই চুক্তিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি। ইরান আবারও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাণিজ্যে বড়সড় ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কেন ভাঙল যুদ্ধবিরতি?
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে চলা ৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাত থামাতে দুই দেশ দুই সপ্তাহের জন্য অস্ত্রবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। শর্ত ছিল, ইরান জ্বালানি পরিবহনের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালী খুলে দেবে। কিন্তু বুধবার মাঝরাতে ইরান অভিযোগ তোলে যে, আমেরিকা ও তার মিত্র দেশগুলো যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি চলা সত্ত্বেও ইজরায়েল লেবাননের ওপর নারকীয় হামলা চালিয়েছে। তেহরানের অভিযোগ, ইজরায়েলি বায়ুসেনা মাত্র ১০ মিনিটে ১০০-র বেশি বিমান হামলা চালিয়েছে লেবাননে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। এর প্রতিবাদেই ফের হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করে দিয়েছে ইরান।

নেতানিয়াহুর অনড় অবস্থান ও লেবানন ট্র্যাজেডি
ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে হওয়া চুক্তির শর্তে লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি স্পষ্ট করেন যে, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করলেও হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান থামাবে না ইজরায়েল। জানা গিয়েছে, ইজরায়েলি হামলায় লেবাননে এখনও পর্যন্ত ১১২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৮৩৭ জন আহত। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ইরান ও আমেরিকার মধ্যে শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। ১০ এপ্রিল নির্ধারিত শান্তি বৈঠক আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে বাড়ছে সংশয়।

আতঙ্কে বিশ্ববাণিজ্য
এদিকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভেট হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখা বরদাস্ত করা হবে না। ট্রাম্পও নেতানিয়াহুর পাশে দাঁড়িয়ে বলেছেন, হিজবুল্লাহ এই চুক্তির অংশ নয়। এখন প্রশ্ন হলো, হরমুজ যদি দীর্ঘকাল বন্ধ থাকে, তবে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম আকাশছোঁয়া হবে, যার প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের পকেটে। মধ্যপ্রাচ্যের এই জটিল দাবার চালে শেষ পর্যন্ত জয় কার হয়, এখন সেটাই দেখার।