সিভিক পুলিশে ‘না’ কমিশনের! ছাপ্পা ভোট রুখতে এবার সরাসরি ‘ব্যাটেল মোডে’ দিল্লি!

২০২৬-এর মেগা নির্বাচনের আগে রাজ্য প্রশাসনের রাশ পুরোপুরি নিজের হাতে নিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোট সুনিশ্চিত করতে এবার জোড়া ফলায় বিঁধল কমিশন। একদিকে যেমন সিভিক ভলান্টিয়ার বা গ্রিন পুলিশকে ভোটের কাজ থেকে সম্পূর্ণ দূরে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তেমনই অন্যদিক থেকে কড়া নজরদারির জন্য ওয়েবকাস্টিং বা সিসিটিভি ক্যামেরা নিয়ে জারি হয়েছে চরম হুঁশিয়ারি।

সিভিক ও গ্রিন পুলিশে কোপ: রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে (CEO) চিঠি পাঠিয়ে কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, ভোটের কোনো কাজে বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সিভিক ভলান্টিয়ার এবং গ্রিন পুলিশকে ব্যবহার করা যাবে না। এমনকি বুথের ত্রিসীমানায় তাঁদের উপস্থিতি রাখা যাবে না। মূলত শাসক ঘনিষ্ঠতা এবং পেশাদার প্রশিক্ষণ না থাকার অভিযোগ তুলে বিরোধীরা সরব হয়েছিল, সেই প্রেক্ষিতেই কমিশনের এই বড় পদক্ষেপ।

ক্যামেরা বন্ধ মানেই পুনর্নির্বাচন: ভোটে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রতিটি বুথে ওয়েবকাস্টিং বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে এবার কমিশন আরও কঠোর। সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে:

  • যদি কোনো কারণে বুথের ভেতরের সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ হয়ে যায় বা লিঙ্ক বিচ্ছিন্ন হয়, তবে সেই বুথের ভোট বাতিল করা হতে পারে।

  • কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি বা কারচুপির প্রমাণ মিললে সেখানে সরাসরি পুনর্নির্বাচনের (Re-polling) নির্দেশ দেওয়া হবে।

  • ক্যামেরার ভিউ যাতে কোনোভাবেই ব্লক করা না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে প্রিসাইডিং অফিসারদের।

কেন এই কঠোর অবস্থান? গত পঞ্চায়েত বা লোকসভা নির্বাচনে দেখা গিয়েছিল, বহু জায়গায় ক্যামেরা থাকলেও গোলমালের সময় তা ‘অকেজো’ হয়ে পড়েছিল। এবার সেই ফাঁকফোকর বন্ধ করতে বদ্ধপরিকর দিল্লি। কমিশনের এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি জেলা প্রশাসন ও পুলিশের ওপর চাপ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

নির্বাচনের দিন বুথে কেবল থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত লাঠিধারী পুলিশ। কোনোভাবেই সিভিক বা ভলান্টিয়ারদের পোশাকে বা সিভিল ড্রেসে বুথে ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেলে কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হবে পুলিশ আধিকারিকদের। কমিশনের এই নয়া গাইডলাইন কি পারবে বাংলার ভোট হিংসা বন্ধ করতে? নজর থাকবে ডেইলিয়ান্ট-এ।