১৩ বছর পর জেলমুক্তি১৩ বছর পর জেলমুক্তি! ভোটের মুখে কি ‘বিস্ফোরক’ সুদীপ্ত সেন? তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি! সারদাকর্তার! ৩৮৯টি মামলায় জামিন সুদীপ্ত সেনের, ভোটের আগে কাঁপছে বঙ্গ রাজনীতি!

দীর্ঘ ১৩ বছরের কারাবাস শেষে অবশেষে মুক্ত হতে চলেছেন সারদা চিটফান্ড কেলেঙ্কারির মূল হোতা সুদীপ্ত সেন। বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চ সুদীপ্ত সেনের জামিন মঞ্জুর করায় তাঁর জেলমুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা রইল না। ভোটের এই তপ্ত আবহে সারদাকর্তার মুক্তি রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে কোনো প্রভাব ফেলে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই চর্চা শুরু হয়েছে।
কেন জামিন দিল আদালত? জামিন মঞ্জুর করার সময় হাইকোর্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে। বিচারপতি জানান, সংবিধানের ২১ নম্বর ধারা অনুযায়ী দ্রুত বিচার পাওয়া একজন নাগরিকের মৌলিক অধিকার। সুদীপ্ত সেনের ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে:
-
তিনি যে সব ধারায় অভিযুক্ত ছিলেন, তার নির্ধারিত সাজার মেয়াদের দ্বিগুণ সময় ইতিমধ্যেই জেলে কাটিয়ে ফেলেছেন।
-
বিচারে দীর্ঘসূত্রতা এবং দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্তকে জেলে আটকে রাখা এক ধরনের ‘প্রশাসনিক ব্যর্থতা’।
-
বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থাও যথেষ্ট উদ্বেগজনক।
জেলের বাইরে থাকলেও কড়া নজরে সুদীপ্ত! আদালত তাঁকে জামিন দিলেও একগুচ্ছ কঠোর শর্ত আরোপ করেছে:
-
পাসপোর্ট জমা: নিম্ন আদালতে পাসপোর্ট জমা রাখতে হবে, অনুমতি ছাড়া রাজ্য ছাড়া চলবে না।
-
পুলিশি হাজিরা: প্রতি মাসে একবার বারাসত থানার ওসির কাছে হাজিরা দিতে হবে।
-
যোগাযোগ: নিজের ফোন নম্বর তদন্তকারী আধিকারিককে দিতে হবে এবং সেটি ২৪ ঘণ্টা সচল রাখতে হবে।
-
নিষেধাজ্ঞা: কোনো সাক্ষীকে প্রভাবিত করা যাবে না এবং নতুন করে কোনো লগ্নি বা আর্থিক প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হওয়া চলবে না।
আদালতে সিবিআই-কে তোপ: মামলার শুনানি চলাকালীন সিবিআই-এর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি। বারাসত থানার নথিপত্র খুঁজে না পাওয়া এবং বিচারের গতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বিচারপতি বলেন, “সিবিআই ট্রায়াল কবে শেষ করবে? শুধু জামিন পাওয়াই কি সব? বিচার শেষ করার কোনো দায় কি সিবিআই-এর নেই?”
পাশাপাশি, সারদার সম্পত্তি অত্যন্ত স্বল্প মূল্যে (মাত্র ৫২ লক্ষ টাকায় ৯টি বাংলো ও ফ্ল্যাট) বিক্রি হওয়া নিয়েও বিস্ময় প্রকাশ করেছে আদালত। বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, এই সম্পত্তি বিক্রির দায়িত্বে থাকা কমিটি আসলে কী করছে?
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া: সারদাকর্তার এই মুক্তি নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে থাকলেও তৃণমূল নেতা তথা বেলেঘাটার প্রার্থী কুণাল ঘোষ বিষয়টি সুকৌশলে এড়িয়ে গিয়েছেন। তিনি সংবাদমাধ্যমে জানান, “এটি সম্পূর্ণ আইনি বিষয়, এ ব্যাপারে আমার কিছু বলার নেই।”